রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করে অল্প সময়ে রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে পেপারলেস বা কাগজবিহীন ব্যবসা শুরু করার তাগিদ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এতে রপ্তানি খরচ, ঝুঁকি ও দুর্নীতিকমে আসবে। একই সাথে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপে ‘পেপারলেস ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, টেরিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মুসফিকা ইকফাত, বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু, প্রধান নিয়ন্ত্রক (আমদানি ও রপ্তানি) ফিরোজা খান, সাবেক সচিব সোহেল আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ প্রমুখ।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইর পরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, আধুনিক যুগে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাগজপত্র বহন করা অস্বস্তিদায়ক ও বোঝা স্বরূপ। তাই ব্যবসার প্রসারে পেপারলেস বা কাগজবিহীন ব্যবসা অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নিতে হবে।
সীমান্ত এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসাবে পেপারলেস বাণিজ্য শুরু করা যায় এমন পরামর্শ দিয়ে প্রবন্ধে তিনি বলেন, এতে নারী ও যুবক উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবে। এর ফলে একদিকে রপ্তানি বাড়বে অন্যদিকে রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সময়, খরচ, ঝুঁকি ও দুর্নীতি কমে আসবে। কমে যাবে বন্দরের জটিলতা। আন্তর্জাতিক ব্যবসা থেকে আয় করা যাবে অধিক মুনাফা।
প্রবন্ধে তিনি আরও বলেন, রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে কোন কোন দেশে পণ্যের চাহিদা ও দাম বেশি, কোথায় পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে- এসব খুঁজে বের করতে হবে।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, আমদানি-রপ্তানিতে কাগুজে পদ্ধতি বাতিল করে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম চালু করা দরকার। তবে বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। সেজন্য নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে।
বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অফিসে কাগজপত্র নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় হয় উল্লেখ করে উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, কাগজপত্র ঠিক করতে অনেক সময় লেগে যায়, হয়রানিও হতে হয়। তাই বিদেশি বিনিয়োগকারিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এসে আবার ফিরে যায়। বিকল্প দেশ হিসাবে তারা ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় চলে যায়।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিবে সরকার।
তিনি বলেন, উন্নতদেশগুলোতে পেপারলেস ব্যবসা-বাণিজ্য হচ্ছে। আমরাও সেইভাবে ব্যবসা এগিয়ে নিতে চাই। পেপারলেস বাণিজ্য চালু করা গেলে ১৭ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি ব্যয় কমে আসবে। একই সঙ্গে বর্তমানের চেয়ে ২৪ থেকে ৪৪ শতাংশ সময় কম লাগবে। এছাড়া এর মাধ্যমে স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। তাই বাংলাদেশে পেপারলেস ব্যবসা চালু করা এখন সময়ের দাবি।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ব এখন ডিজিটাল পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিও-এর মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিষয়টি অনুমোদন করে। আগামী ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।
এসময় বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু বলেন, কাগজবিহীন ব্যবসা চালু করার পরামর্শটি সময়োপযোগী। আগামী সোমবার মন্ত্রীপরিষদের সভায় এই বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।








