গাজীপুর কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রের নারীদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষায় পুরুষ গার্ডের পরিবর্তে নারী গার্ড নিয়োগের সুপারিশ করেছে জেলা প্রশাসনের কমিটি। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এ কেন্দ্রের মেয়েদের নিম্নমানের খাবার দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে কোনাবাড়ি কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রের দুরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। এখানে ১শত ৫০ জনের বাস। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানের সহকারি পরিচালক ও উপ-তত্ত্বাবধায়কের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
এই কেন্দ্রে তাই সহকারি পরিচালক ও উপ-তত্ত্বাবধায়ক পদের চেয়ে নিম্ন পদের একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এখানকার মেয়েরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে অভিযোগ জানালেও প্রতিকার পেতেন না।
সম্প্রতি নিরাপত্তা প্রহরী কাওসার ভূঁইয়ার যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের তদন্তে নানা অনিয়মের তথ্য বের হয়ে আসে। অপরাধী বা যেকেউ যেখানে আশ্রিত হয়, বিপদে এসে পরে সেই জেলখানা বা আশ্রয়কেন্দ্রে সুরক্ষা বা মানসিক আশ্রয়ের পরিবর্তে নির্যাতনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) এস এ মোস্তফা কামাল।
কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র করা কর্তৃপক্ষের আগে থেকেই বেশি পরিমানে মহিলাদেরকে জড়িত করা উচিত ছিলো বলে মন্তব্য করে মোস্তফা কামাল বলেন, আমি সুপারিশে বলেছি যে একমাত্র মেইন সিকিউরিটি গার্ড ছাড়া সকল গার্ডদেরকে অবশ্যই মহিলা হতে হবে।
জেলা প্রশাসন-এর কমিটির কাছে এ কেন্দ্রের মেয়েরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন তাদের নিম্নমানের খাবার দেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মোস্তফা কামাল বলেন, খাবারের ক্ষেত্রে মেয়েরা একটু বৈচিত্রপূর্ণ করার কথা বলেছে।
কর্তৃপক্ষকে খাবারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা উল্লেখ করে কামাল বলেন,আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনারা যে খাবারের রোস্টারটা করেছেন তা কোথায় রেখেছেন? আপনি যে একটা সাপ্তাহিক রোস্টার করেছেন এটা কোথায় টানানো আছে?
মাসে একদিন গরুর মাংস দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয় না মেয়েদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোস্টারটি কিচেন রুমে, ডাইনিং রুমে, মেয়েদের রুমে রুমে রাখার নির্দেশনা দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ।
এ কর্মকর্তা বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদারকি বাড়ানো না হলে এ কেন্দ্রের মেয়েদের নিরাপত্তা আরো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।







