দক্ষিণ কোরিয়ার যে সিনেমাটি পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তা হলো ‘প্যারাসাইট।’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারকদের মুগ্ধ করে স্বর্ণপাম জিতে আসা এই ছবিটি নির্মাণ করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা বঙ জুন-হো।
চার সদস্যের একটি পরিবারের গল্প দিয়ে ছবির কাহিনী শুরু হয়। দরিদ্র সীমার নিচে বাস করা সেই পরিবারটি পিজার বাক্স বানায়। একদিন পরিবারের ছেলে সন্তানটি আবিষ্কার করে তাদের বাসা থেকে কয়েকটি সিঁড়ি উপরে উঠলেই ওয়াইফাই পাওয়া যায়। ভালো থাকার চেষ্টায় একসময় ছেলেটি ও মেয়েটি ধনীর সন্তানদের পড়াতে এবং ছবি আঁকা শেখাতে যায়। একসময় তাদের মনে হয়, নিজের বাড়ির চাইতে অন্যের বাড়িতেই তাদের বেশি ভালো লাগছে। কারণ সেখানে সব সুযোগসুবিধা পাওয়া যায়। এভাবেই আগাতে থাকে ছবির গল্প।
সিনেমাপ্রেমীদের এই ছবি অবশ্যই দেখা উচিত। বিশেষ করে যারা ভিন্ন ধরণের গল্পের ছবি দেখতে ভালোবাসেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা পছন্দ করেন, এই ছবিটি তাদেরকে মুগ্ধ করবে। ‘প্যারাসাইট’ ছবিটি যেসব কারণে দেখা উচিত সেই সম্পর্কে জেনে নিন ফিচারে।

বঙ জুন-হো’র ছবি: দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় নির্মাতা বঙ জুন-হো’র ছবি মানেই বিশেষ কিছু। তার ছবি শুধু বিনোদন দেয় না, থ্রিলও দেয়। দ্য হোস্ট, স্নোপিয়ারসার, মেমোরিজ অব মার্ডারার, মাদার, ওকজার মতো জনপ্রিয় সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি।
স্বর্ণপাম জয়: ‘প্যারাসাইট’ কান উৎসবে মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। সেই সাথে জিতে নিয়েছে স্বর্ণ পাম। এই প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো সিনেমা কান উৎসবে স্বর্ণপাম জিতে নিয়েছে।

শ্রেণীবৈষম্যের গল্প: ‘প্যারাসাইট’-এর বাংলা অর্থ পরজীবী। এই সিনেমাটিকে বলা হচ্ছে ব্ল্যাক কমেডি ঘরানার। গরীব ও ধনীর মাঝে বিদ্যমান শ্রেণী-বিভেদ নিয়ে তৈরি হয়েছে ছবির গল্প। নান্দনিক ভাবে বঙ জুন-হো ছবিটিকে কমেডি থেকে ধীরে ধীরে ট্র্যাজেডির দিকে নিয়ে গিয়েছেন। সমাজের কঠিন সত্যগুলোকে তিনি কোনোরকমের রাখঢাক ছাড়াই সিনেমায় ফুটিয়ে তুলেছেন ধারালো ভাবে।
নির্মাণ শৈলী: ‘প্যারাসাইট’ সিনেমায় আবেগ কাজ করবে রোলার-কোস্টার রাইডের মতো। কখনো হাসি পাবে, কখনো কান্না পাবে। কখনো আবার খুব চাপ পড়বে মনে। কমেডি, সিরিয়াস ড্রামা অথবা সাসপেন্স, সব কিছুকেই এক সিনেমায় ঠাই দেয়া হয়েছে। ক্যামেরার কাজ, কালার টোন, আলো-অন্ধকারে দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নিখুঁতভাবে। আর তাই সিনেমাপ্রেমিদের মনে এই ছবি গেঁথে থাকবে বহুদিন।








