যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরান সরকার নিষিদ্ধ বিরোধী সংগঠন পিপলস মোজাহেদিন অর্গানাইজেশন অব ইরান (PMOI/MEK)-এর সদস্য অভিযোগে আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
শনিবার সকালে আবোলহাসান মন্তাজের ও ভাহিদ বানিআমেরিয়ানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তাদের সাজা বহাল রাখে।
ইরানের বিচার বিভাগীয় ওয়েবসাইট মিজান অনলাইনের তথ্যে বলা হয়, তারা “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহে অংশ নেওয়ার” দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
পিপলস মোজাহেদিন অর্গানাইজেশন অব ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় ইরানের রাজতন্ত্র পতনে সমর্থন দিলেও পরে নতুন সরকারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৮০-এর দশকে সংগঠনটিকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” ঘোষণা করা হয় এবং এরপর থেকে তারা নির্বাসনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আগেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
গত ৩০ ও ৩১ মার্চ একই সংগঠনের আরও চার সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
তারা হলেন:
- মোহাম্মদ তাঘাভি
- আকবর দানেশভারকার
- বাবাক আলিপুর
- পউয়া ঘোবাদি
সংগঠনটির দাবি, ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিপ্লবী আদালতে তাদের গ্রেপ্তার ও দণ্ড দেওয়া হয়।
পিপলস মোজাহেদিন অর্গানাইজেশন অব ইরান এক বিবৃতিতে এসব মৃত্যুদণ্ডকে “ব্যর্থ দমননীতি” বলে আখ্যা দিয়েছে।
তাদের ভাষায়, “এই নির্মম মৃত্যুদণ্ড বিরোধীদের থামাতে পারবে না, বরং তরুণদের আরও প্রতিরোধে উৎসাহিত করবে।”
মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এসব ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বন্দিদের নির্যাতন করা হয়েছে এবং হঠাৎ করে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সংগঠনটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপপরিচালক ডায়ানা এলতাহাউই বলেন, “যুদ্ধ ও শোকের মধ্যেও ইরান সরকার মৃত্যুদণ্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করছে।”
যুদ্ধ শুরুর পর মৃত্যুদণ্ড বৃদ্ধি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছেন:
- কুরুশ কেইভানি (ইরান-সুইডেন দ্বৈত নাগরিক, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে)
- আরও কয়েকজন বিক্ষোভ-সংক্রান্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি
অ্যামনেস্টি সতর্ক করেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও পাঁচ তরুণকে সম্প্রতি কারাগার থেকে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয়েছে—যা নতুন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা তৈরি করছে। চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানে বিরোধী দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার আন্তর্জাতিকভাবে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।







