চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বসবাসকারী প্রায় চার লাখ মানুষ মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করে সমুদ্রপথে। ৭ টি নৌ-রুট হয়ে প্রতিদিন এই পথে ৩-৪ হাজার যাত্রী সন্দ্বীপ-চট্টগ্রামে আসা যাওয়া করলেও এই রুটে নেই ভালো মানের কোন নৌ-যান। সরকারি সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি এই ঘাটে স্টীমার চালালেও সেটা মেয়াদউত্তীর্ণ নৌ রুটে চলাচলের অনুপযোগী। জেলা পরিষদের দেয়া ঘাটেরও একই হাল।
চার হাজার বছরের পুরনো বঙ্গোপসাগরের বুকে এক টুকরা স্থলভাগ সন্দ্বীপ। দ্বীপের গুপ্তছড়া থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। স্পিডবোটে পার হতে লাগে ২৫-৩০ মিনিট। কাঠের তৈরি ট্রলার বা সি-ট্রাকে লাগে এক ঘন্টার মতো। ঘাট পরিচালনায় নেই কোন নিয়ম কানুন। ঘাট ইজারাদারের লোকজন শর্ত না মেনে ইচ্ছামতো যাত্রী পারাপার করে যাচ্ছে। তাদের গাফিলতি আর স্বেচ্ছাচারিতায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় হাজার হাজার যাত্রীকে। সন্দ্বীপবাসীর যাতায়াতে দুর্ভোগ কমাতে জেটি, বিশ্রামাগারসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে তা সাধারণ যাত্রীদের বিশেষ কোনো কাজে আসছে না।
কুমিরা ঘাট দিয়ে কর্মস্থলমুখী প্রচুর যাত্রী সন্দ্বীপ থেকে আসা-যাওয়া করছে। এসব যাত্রীর আনা-নেয়ায় ইজারাদাররা ব্যবহার করছেন মালবাহী নৌকা। মালবাহী নৌকায় যাত্রী আনা-নেওয়ার কোনো নিয়ম না থাকলেও ওই নিয়মের তোয়াক্কা না করে যাত্রী পারাপার চলছে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার পথে সি-ট্রাক থেকে নামার সময় লাল বোট উল্টে ১৮ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এছাড়াও নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ।এই অনিয়ম চলতে থাকলেও নেয়া হচ্ছেনা কোন পদক্ষেপ। ফলে সন্দ্বীপের যাত্রীদের দুর্ভোগ কাটছে না যুগ যুগ ধরে।
সন্দ্বীপের হাজার হাজার যাত্রী গুপ্তছড়া থেকে কুমিরা ঘাটে এসে মহাসড়ক হয়ে যার যার গন্তব্যে যাতায়াত করে। একইভাবে সারা দেশ থেকে এখানে এসে কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ যাতায়াত করে। ১৩ কিলোমিটার নদী পার হতে যাত্রীদের স্পীডবোট ভাড়া গুনতে হয় ৩০০টাকা যা সারা দেশের নৌরুট গুলোর তুলনায় ডাবল। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য এ রুটে সি-ট্রাক চালু করা হয়েছে। কিন্তু ইজারাদাররা সেখানে প্রচুর অনিয়ম করছেন। সি-ট্রাকের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ালেও কাউন্টার থেকে নানা অজুহাতে টিকিট বিক্রি না করে স্পিডবোটে যেতে উৎসাহী করা হয়। সি-ট্রাকে জনপ্রতি ভাড়া ১৬০ টাকা। এতে যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্বিগুণ লাভ হয় ইজারাদারদের। আবার মাঝেমধ্যে বিকল দেখিয়ে সি-ট্রাকগুলো চালানোও হয় না। সারা দিনে সি-ট্রাক একবার যায় আর একবার আসে। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীরা স্পিডবোট অথবা মালবাহী নৌকায় চলাচল করে। অথচ উত্তাল সমুদ্রে স্পিডবোট বা নৌকা চলাচলের উপযোগী নয়।
ঘাটের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার বা মালবাহী নৌকায় যাত্রী পারাপারের বিষয়ে কেউ আমাকে বলেনি। বিষয়টি আমি অবগত নই।’ তিনি আরো বলেন, বিআইডব্লিউটিসির দুটি সি-ট্রাক চলে। এগুলো পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েক মাস আগে নৌদুর্ঘটনায় যে ১৮ যাত্রী মারা যায়, সেটি হয়েছে সি-ট্রাকের গাফিলতিতে। ওই সময় এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি এই কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু এখনো সেই সি-ট্রাক চলছে কিভাবে, এগুলো বোধগম্য নয়। অন্যদিকে বিআইডাব্লিউটিসির চট্টগ্রাম অফিসের এজিএম আবুল কালাম বলেন, ‘সি-ট্রাক সমুদ্রে চলাচলের উপযোগী। ওই পথে দুটি সি-ট্রাক চলাচল করলেও এর একটি (এলসিটি কাজল) আমাদের। আরেকটি অন্য ইজারাদারের। আর দুর্ঘটনা একেবারে প্রাকৃতিক বিষয়।








