মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর মামলায় আপিলের উপর যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ৮ মার্চ।
প্রথমে তারিখ ২ মার্চ ঠিক করা হলেও প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ঢাকার বাইরে সফর থাকায় রায়ের তারিখ বদলে ৮ মার্চ করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানি। আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। পরে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর পাল্টা যুক্তি দেয় আসামিপক্ষ। এর পরই রায় ঘোষণার তারিখ ২ মার্চ ঠিক করার পর আবার পরিবর্তন করে ৮ মার্চ করা হয়।
এর আগে গত বুধবার মীর কাশেম আলীর শুনানি মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চে ওই শুনানি হয়।
আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, যে দু’টি হত্যাকাণ্ডের জন্য ট্রাইব্যুনাল মীর কাশেমকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন তা সঠিকভাবেই দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি অভিযোগ হলো জসিম নামের একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়া।
আরেকটি অভিযোগ হলো টুন্টু সেন ও রঞ্জিত দাস নামের দু’জনকে নির্যাতন করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়া। সুতরাং এ দু’টি মৃত্যুদায় থেকে মীর কাশেম কোনোভাবেই অব্যাহতি পেতে পারেন না বলে মনে করেন তিনি।
রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশার কথা জানান মাহবুবে আলম।
যুক্তি উপস্থাপনের শেষ দিন আবারও প্রধান বিচারপতি মীর কাসেম আলীর নামে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তকারী সংস্থা ও মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউশনের কঠোর সমালোচনা করেন। বলেন, অন্যান্য মামলার চেয়ে এ মামলার তথ্য-প্রমাণের অনেক ঘাটতি আছে, এজন্য তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনকে কাঠগড়ায় নেওয়া উচিত। এ মামলা দায়সারাভাবে করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ সম্পর্কে এটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা আদালতের পর্যবেক্ষণ। আদালতের পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে তো আমার কোনো বক্তব্য থাকতে পারে না।’
আসামীপক্ষের পাল্টা জবাবের সময় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্যরাই আলবদর হয়েছে, যারা ছিল একটি কিলিং স্কোয়াড। এর দায় এড়াতে পারেন না আসামি।
আসামীপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের দাবি, মামলাটি মীর কাশেমের বিরুদ্ধে প্রমাণ করার জন্য আইনগতভাবে যে সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা দরকার তা নেই। সুতরাং এক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা হতে পারে না। সর্বোচ্চ বেনিফিট অব ডাউট পেতে পারেন তিনি।
এটর্নি জেনারেল বলেছেন, এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের সময় আপিল বিভাগ যে মন্তব্য করেছেন তা রায়ে প্রতিফলিত হলে ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেফতার করা হয় জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতাকে। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তার যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়।
মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে দু’টি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ৮টি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
এর বিরুদ্ধে আপিল করলে শুনানি ২ ফেব্রুয়ারি শুরুর কথা থাকলেও আসামীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে পিছিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি ঠিক করা হয়।
শুনানিতে প্রথম দিনে ১০ অভিযোগ ও রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ সাক্ষীর বক্তব্য উপস্থাপন করে আসামীপক্ষ।
২০১৪’র ২ নভেম্বর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাশেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।







