বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত দাবি করে ‘সর্বস্তরের জনগণের’ ব্যানারে বরগুনায় করা মানববন্ধনের পর মিন্নি বলছেন, মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের আড়াল করতেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ সময় তিনি অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
রোববার সকাল ১০টায় বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বরে বরগুনার সর্বস্তরের জনগণেরর ব্যানারে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বেলা সাড়ে ১২টায় মানববন্ধন ও গতকাল রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।
এ সময় তিনি দাবি করেন, মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের আড়াল করতেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমার শ্বশুর অসুস্থ মানুষ। তিনি কখন কোথায় কি বলেন তার কোন ঠিক নেই। তবে আমার মনে হচ্ছে তাকে দিয়ে কোন মহল স্বার্থ হাসিল করার জন্য আমাকে জড়িয়ে মামলাটিকে হালকা করার চেষ্টা হচ্ছে। যাতে করে আসামিরা ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। আর আমার যদি নয়নের সাথে বিয়েই হবে তবে যখন রিফাতের সাথে বিয়ে হয়েছিলো তখন নয়ন কেন বাধা দেয়নি।
রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোররাতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনসহ সাত আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। এ ঘটনায় বর্তমানে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।








