দুজন সমবয়সী, ৩৪। দুজনের টেস্ট অভিষেক এক সঙ্গে, ২০০১। সাদা পোশাকে দুজন মাঠেও নেমেছেন সমান ম্যাচে, ৩৬টি। ক্যারিয়ারজুড়ে দুজনকেই দেখতে হয়েছে নানা উত্থান-পতন। দুজনের এই ‘সমচিত্রে’র ভেতর একজন আরেকজনের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচের দিন মাসাকাদজাকে যখন একান্তে পাওয়া গেল, চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে তখন অকপটে বললেন, মাশরাফীর জীবন থেকেই অনুপ্রেরণা খুঁজে পান তিনি।
‘মাশরাফীর জীবনটাই অনেক বড় অনুপ্রেরণার। শুরুর দিকে তার বিপক্ষে অনেক খেলেছি,’ স্মৃতিচারণ করতে করতে মাসাকাদজা বলেন, ‘কলাবাগান ক্লাবে আবার একই সঙ্গে খেলেছি। কঠিন সময় থেকে বাউন্স ব্যাক করে সে ক্যারিয়ার লম্বা করেছে এত ইনজুরির পরও। যা আমার জন্য অনেক প্রেরণাদায়ক। তার জীবনের গল্প শুনেছি, পড়েছি। তাকে আমি ফলো করি। বিগ পার্ট অব বাংলাদেশ ক্রিকেট। খুবই দয়ালু মানুষ। আমি দেখেছি বাংলাদেশের জন্য কীভাবে সে অবদান রাখছে। মাশরাফী অনেক বড় উৎসাহ আমার জন্য।’
ক্রিকেটে সোনালী সময় পেছনে ফেলে এসেছে জিম্বাবুয়ে। নতুন করে জাগরণের পথ খুঁজছে দলটি। আলোকবর্তিকা হয়ে এখনও ওয়ানডে, টি-টুয়েন্টি দলে জ্বলছেন মাসাকাদজা। মাশরাফীর থেকে ওয়ানডে খেলেছেন চরটি কম, ১৮০টি। জানালেন, আরও কিছুদিন খেলতে চান দেশের জার্সি গায়ে। যখন ভেঙে পড়েন দৃশ্যপটে আসেন মাশরাফী। অসম্ভব সব বাধা টপকে লাল-সবুজের জার্সি জড়িয়ে যিনি ২২ গজে ব্যাট-বলে হুংকার তোলেন, আগলে রাখেন সতীর্থদের।

মাসাকাদজা যখন জিম্বাবুয়ে দলের নবীন সদস্য, তখন স্ট্রিক-ফ্লাওয়ার-ক্যাম্বেলরা বলে-কয়ে বাংলাদেশকে হারাত। সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশই এখন বলে কয়ে হারায় তাদের উত্তরসূরিদের। দেশটির বিপক্ষে টানা ৯ ম্যাচে অপরাজিত বাংলাদেশ। অল্প সময়ে এতটা বদল দেখে আপ্লুত মাসাকাদজা।
‘বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। শেষ কিছু সিরিজে ধারাবাহিকভাবে ভাল করেছে। এমনকি টেস্টেও। তারা শুধু ক্রিকেটেই নয়, অবকাঠামোও বেশ উন্নত করেছে। মাঝে আমাদের অনেক খারাপ সময় গেছে। তবে এখন আমাদের টিমও ভাল করছে। ভাল ফল আনছে ছেলেরা। আশা করি এ সময়টা ধরে রাখতে পারব।’
শুধু বাংলাদেশ দলের এগিয়ে যাওয়া নয় এদেশের মানুষের ক্রিকেট প্রেমও মাসাকাদজার জন্য দারুণ অনুপ্রেরণার, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন যত দূর এগিয়ে সেটিও আমাদের বেশ অনুপ্রেরণা দেয়। আরেকটা বিষয় হল এদেশের মানুষ। তারা ক্রিকেট শুধু দেখে বা বুঝে তা নয়; তারা ক্রিকেটকে সমর্থন দেয়। এই তো, আমরা এখানে (মিরপুরের একাডেমি মাঠ) অনুশীলন করছি। আর মানুষের চিৎকারেই বুঝতে পারছি, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে (শুক্রবারের ম্যাচ) কতটা ভাল করছে। আবার আমাদের অনুশীলনেও তারা চলে এসেছে দেখতে। এগুলো আসলেই অনুপ্রেরণা দেয়।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএলে নিয়মিত খেলায় প্রতিবছরই বাংলাদেশে আসা হয় মাসাকাদজার। দুই দেশের ক্রিকেটের পার্থক্য করতে পারেন তাই খুব ভালভাবেই, ‘আমি কলাবাগানের হয়ে খেলেছি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে, বিপিএলে খেলেছি। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে দুই দেশের মধ্যে বড় পার্থক্য ঘরোয়া ক্রিকেট। এখানে অনেকগুলো দল খেলে, ১২টার মত। আমাদের মাত্র চারটি দল। এখানে ক্রিকেটারদের জন্য বেশ টাকা খরচ করা হয়। তাই অনেক বেশি ক্রিকেটার এখানে খেলে। আমাদের ওখানে কিন্তু খেলার মত এত ক্রিকেটার নেই। জানি না দুই দেশের বোর্ডের আয়ের ব্যবধান কত। তবে স্পন্সরশীপের জায়গা থেকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। দল ভাল করায় অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা এই জায়গাগুলোতে পিছিয়ে আছি।’
নিজেদের ক্রিকেট নিয়ে মাসাকাদজা এখনো আশা ছাড়েননি। লড়াই করে যাচ্ছেন, হয়তো একদিন ঘুরে দাঁড়াবে তার দেশ। আর সেই জন্য তারা বাংলাদেশের উন্নতির মাঝেও খুঁজে পান নিজেদের ফিরে পাওয়ার মন্ত্র।








