দেশে শান্তি ফেরাতে তালেবানের সাথে ‘গোপনে’ আবার আলোচনা শুরু করেছে আফগান সরকার। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে শুরু হওয়া এই বৈঠক চলছে তৃতীয় দেশ কাতারে, আর এতে মধ্যস্থতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ‘গোপন’ বৈঠকের খবর বেরিয়েছে।
২০১৩ সালেও এই রকম একটি আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে মার্কিন ড্রোন হামলায় মোল্ল্যা আখতার মনসুর নিহত হলে শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
তবে কোনোরকম শান্তি আলোচনার কথা নাকচ করেছে তালেবান। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের পর বুধবার এক বিবৃতিতে এই ধরনের আলোচনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। বার্তা সংস্থা এএফপি’র বরাতে তালেবানের অস্বীকারের খবর দিয়েছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ‘ডন’।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের পর আফগানিস্তানের টোলো টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, আফগান গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ মাসুদ স্ট্যানকিজাই ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোহাম্মদ হামিদ আমতার কাতার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তালেবানের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, স্ট্যানকিজাই বা কোনো কর্মকর্তার সাথেই ইসলামিক এমিরেটসের (তালেবানের দেয়া রাষ্ট্রীয় নাম) কোনো প্রতিনিধি কোনো বৈঠক করেনি। আমরা আগে মতোই আমাদের কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদের পলিসি খুবই পরিস্কার। সব বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার হওয়ার আগে আমরা সরকার বা কারো সাথেই আলোচনা করবো না।’

তবে প্রতিবেদনে তালেবান এক কর্মকর্তার বেনামি সূত্রের বরাতে গার্ডিয়ান জানায়, কাতারে অনুষ্ঠিত আফগান সরকার ও তালেবানের বৈঠকে মধ্যস্থতা করছেন এক মার্কিন সিনিয়র কর্মকর্তা। আর বৈঠক হচ্ছে কাতারের অবস্থিত তালেবানের কূটনৈতিক অফিসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে আফগান তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্ল্যা ওমরের ভাই মোল্ল্যা মান্নান উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনার পরের রাউন্ডগুলোতে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছেন মোল্ল্যা ওমরের ছেলে মোল্ল্যা মোহাম্মদ ইয়াকুবও। ২০১৩ সালে আফগানিস্তানেই স্বাভাবিক মৃত্যু হয় ওমরের।
কাতারে অনেক আগেই একটি কূটনীতিক অফিস পরিচালনা করছে তালেবান। সে কথা উল্লেখ করে কাবুলের জাতীয় ঐক্যের সরকারের এক কর্মকর্তা গার্ডিয়ানের কাছে দুদফা বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তালেবান বা মার্কিন সরকারের দিক থেকে এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে আফগানিস্তানের মার্কিন দূতাবাসও।
সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠকের ফলাফল এখনো অস্পষ্ট। তবে তালেবান সূত্র গার্ডিয়ানকে বলেছে, ‘বৈঠক ছিল ইতিবাচক এবং তা অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি নির্ঝঞ্ঝাট ও নিরাপদ পরিবেশে।’

আর দ্বিতীয় বৈঠকটি হয় চলতি মাসে। এই সময়ে যদিও মার্কিন-আফগান বাহিনীর সাথে ব্যাপক যুদ্ধে অবতীর্ণ তালেবান। এরই মধ্যে কুন্দুস ও হেলমন্দের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে তালেবান।
আফগানিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান তালেবান অংশ নিলেও আলোচনায় কোনো পাকিস্তানি কর্মকর্তা অংশ নেননি বলে গার্ডিয়ানকে নিশ্চিত করেছে কোয়েটা তালেবানের এক সূরা সদস্য। তিনি প্রতিবেদককে বলেছেন, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম তালেবানের উপর প্রভাব কমেছে পাকিস্তানের।
গত বছর থেকেই আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না পাকিস্তানের। মার্কিন-আফগানদের অভিযোগ তালেবানকে আলোচনার টেবিলে নেয়ার চেয়ে তাকে নিজের মাটিতে আশ্রয় দিচ্ছে পাকিস্তান। তবে অভিযোগ কড়া ভাষায় নাকচ করেছে ইসলামাবাদ।
যদিও তালেবানকে উচ্ছেদে আফগান বাহিনীকে আকাশ ও সামরিক সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত দুই বছরে শক্তি আরো বৃদ্ধি করেছে তালেবান। ২০০১ সালে মার্কিন হস্তক্ষেপের পর সম্প্রতি কাবুলের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকায় বড়সড় বেশ কয়েকটি অপারেশান চালিয়েছে তারা।
তবে সহিংসতা বাড়া সত্ত্বেও তালেবানের সাথে আলোচনায় আগ্রহী মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকার। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তারা গত মাসেই যুদ্ধবাজ নেতা গুলবিদ্দিন হেকমাতিয়ারের সাথে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করে। মার্কিন নেতৃতাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে গত একদশকের বেশি সময় যুদ্ধ করেছেন হেকমাতিয়ার।








