১১ বছর বয়সী বিয়াঙ্কা লুইসের শখের শেষ নেই। সে বার্বিডল নিয়ে খেলে, ভিডিও গেমে মশগুল থাকে আবার কখনো গান গায়, তলোয়ার চালায়। তবে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্রের অনলাইন অবকাঠামোতে ঢুকে পড়তে, অর্থাৎ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্যভাণ্ডারে ঢুকে পড়তে! এমনকি ভোটের ওয়েবসাইটে ঢুকে কমিয়ে দিতে পারে ট্রাম্পের ভোট!
তবে আপাতত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ বিয়াঙ্কা আসল মার্কিন ওয়েবসাইটের বদলে এই ওয়েবসাইটের একটি প্রতিলিপি হ্যাক করছে একটি হ্যাকিং প্রতিযোগিতায়।
‘ভালোর জন্য হ্যাকিং’ এই মূলমন্ত্রে চলা ‘রুটজ অ্যাসাইলাম’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় হ্যাকিংয়ে মেতেছে বিয়াঙ্কাসহ আরও বেশ কয়েকজন ক্ষুদে হ্যাকার।
কিন্তু হ্যাকিংয়ের অভিযোগ তো রুশ হ্যাকারদের বিরুদ্ধে! তাহলে নিজের দেশের এই ক্ষুদে মার্কিনীরা কেন নিজের দেশের ওয়েবসাইট হ্যাক করছে!
আসলে এই প্রতিযোগিতা মার্কিন সাইবার নিরাপত্তার জন্য জোরালো একটি সতর্ক বার্তা দেয়ার চেষ্টা। কারণ নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু ডিজিটাল ভোটদান ব্যবস্থা এতোই অনিরাপদ যে একটি বাচ্চা ছেলেকেও শিখিয়ে দিলে সে তা কয়েক মিনিটে করে ফেলতে পারবে।
রুটজ অ্যাসাইলামের প্রতিষ্ঠাতা নিকো সেল বলেন,‘ এই ওয়েবসাইটগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব ওয়েবসাইটে জনগণ নির্বাচনী ফলাফল দেখতে পায়। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই মানুষ জানতে পারে কোথায় গিয়ে নিজের ভোটটি দিতে হবে। এখন চিন্তা করে দেখুন, এসব ওয়েবসাইট হ্যাক করে ভুল তথ্য দিয়ে কেমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সম্ভব।’
মহৎ উদ্দেশ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যেহেতু আসল ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করা সম্পূর্ণ অবৈধ তাই মার্কিন তথ্য সম্প্রচারকারী ওয়েবসাইটগুলোর মতো হুবহু ১৩ টি নকল ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় এবং ক্ষুদে হ্যাকারদের এই ওয়েবসাইটগুলোই হ্যাক করতে বলা হয়।
প্রতিযোগিতায় ৭-১৭ বছর বয়সী ৩৯ জন প্রতিযোগি অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩২ জনই সফল হ্যাকার হিসেবে নানা চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হয়।








