ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীসহ প্রশাসনের ‘ব্যর্থ’ কর্মকর্তাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অব্যাহতির সময় বেঁধে দিয়ে ঢাকার শাহবাগ থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
দাবিপূরণ না হলে আগামী ১৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় আবার শাহবাগে সড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব সংগঠনকে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত তাদের এই অবরোধের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল করেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সচেতন হিন্দু শিক্ষার্থীবৃন্দ’, ‘সাধারণ হিন্দু শিক্ষার্থীবৃন্দ’, ‘সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ’, ‘রমনা কালি মন্দির ও আনন্দমীয় আশ্রম পরিচালনা পরিষদ’সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নেন।বিক্ষোভ চলাকালে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ মন্ত্রী সনাতনধর্মাবলম্বীদের গালাগাল করেছেন এবং তার প্রত্যক্ষ মদদে নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে, সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে নাসিরনগরে হামলার ঘটনায় মন্ত্রী ছায়েদুল হকে দায়ী করে অবিলম্বে তার পদত্যাগ ও জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছে বিএনপি। এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে হামলাকারীদের মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয়।
ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির ভাঙা হয়; ভাংচুর-লুটপাট করা হয় হিন্দুদের শতাধিক ঘর-বাড়ি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওসির উপস্থিতিতে সমাবেশে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের পর ওই হামলার ঘটনা ঘটায় স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। এর পাঁচদিনের মাথায় একই এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ও মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শাহবাগে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ জানানো শুরু হয়।








