সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করার পর থেকে মন্ত্রিসভায় যোগ-বিয়োগ সম্ভাবনার যে কথা আলোচনা হচ্ছিলো, দুয়েকদিনের মধ্যে তা বাস্তব হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সকল কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার দপ্তরে থাকতে বলা হয়েছে। পরিবহন পুলকে বলা হয়েছে ছয়টি গাড়ি প্রস্তুত থাকতে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর থেকেই ‘সমালোচিত’ কয়েকজন মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র বলছে, শিগগিরই কয়েকজনকে বাদ দিয়ে আর নতুন কয়েকজনকে যোগ করে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হবে।
মঙ্গলবার ৬টায় শপথ!
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রীদের শপথ হতে পারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি। তবে ভিন্ন এক প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলাদা বৈঠক হয়েছে যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার সচিবালয়ে আসতে দেরি হয়।
সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রী
নতুন মন্ত্রী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে আছেন চট্টগ্রামের নুরুল ইসলাম, বিএসসি।
মন্ত্রিসভায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য তালিকায় আছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপুমনি, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং ড. হাসান মাহমুদ।
আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ সরকারের মন্ত্রী আব্দুল কুদ্দুসেরও মন্ত্রিসভায় ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে।
নতুন হিসেবে আলোচনায় আছেন ডা. হাবিব এ মিল্লাত মুন্না এমপি, তারানা হালিম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন নাসিম।
কারা বাদ পড়ছেন?
আর সম্ভাব্য বাদ পড়াদের তালিকায় আছেন বিতর্কিত কয়েকজন।
যারা বাদ পড়ছেন তাদের জন্য সোমবারই ছিলো মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদ্য দপ্তর হারানো মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এতে উপস্থিত ছিলেন না।
গত সপ্তাহে হঠাৎ আলোচনায় সৈয়দ আশরাফ প্রসঙ্গ আসলেও শুরু থেকেই ভেতরের আলোচনায় ছিলেন অন্যরা। ব্রাজিল থেকে ‘নিম্নমানের’ গম আমদানির পর দলের ভেতরে ও বাইরে তুমুল সমালোচনার মুখে আছেন পড়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি উচ্চ আদালতে যাওয়ায় আরো চাপের মুখে পড়েন তিনি।
প্রথম থেকে এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী কোনো মন্তব্য না করলেও জাতীয় সংসদে তিনি এর দায় বিএনপি এবং গণমাধ্যমের ওপর চাপিয়ে বলেছেন, খালেদা জিয়া ইস্যু তৈরি করতেই ‘গম বিতর্ক’ তৈরি করেছেন। ‘আসলে ওই গম দেখতে খারাপ হলেও গুণগত মান ভালো।’
তবে আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই এমন গম আমদানির বিষয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। প্রকাশ্যেই দলের একজন এমপি তার এলাকায় ওই গম ঢুকতে বাধা দেওয়ায় আরও চাপে পড়েন কামরুল ইসলাম।
মন্ত্রিসভার আরেক সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন নারায়ণগঞ্জে র্যাবের হাতে ৭ খুনের ঘটনার পর। ওই ঘটনার প্রধান আসামি তার জামাতা।
এক পর্যায়ে বিষয়টা হালকা হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু দুর্নীতির দায়ে নিম্ন আদালত যে সাজা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট তা বাতিল করলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে বিষয়টি আবারো হাইকোর্ট বিভাগে পাঠিয়েছেন।
দুদকের আইনজীবী ওই রায়ের পর বলেন, এখন তিনি (মায়া) আর মন্ত্রী থাকতে পারবেন না। যদিও মায়ার আইনজীবী এর বিরোধিতা করে বলেছেন, আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রী থাকতে বাধা নেই।
মন্ত্রিসভার আরো কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে আলোচনা আছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ তাদের অন্যতম।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরইমধ্যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। মন্ত্রিসভা থেকে কাউকে কাউকে বাদ দিতে নীতিগত সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রিসভায় রদবদল স্বাভাবিক ঘটনা: সুরঞ্জিত
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আলোচনা প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলেই সেটা সম্ভব। এখন দেখার বিষয় তিনি কি করেন?
তবে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে বিতর্কের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাবেক দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হেসে জবাব দেন, এটা আপনারাই (সাংবাদিকরা) ভালো বলতে পারেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, রদবদল বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। শিগগিরই এটা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।







