পরমাণু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অবরোধ আরোপ থাকায় এতোদিন নিজেদের মতো করেই সামরিক শক্তি অর্জনের চেষ্টা করেছে ইরান। পরমাণু চুক্তি হওয়ার পর ইরানের উপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপিয় মিত্ররা। এই সুযোগে অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দিকেও নজর দিয়েছে ইরান। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়ার তৈরি ‘সুখোই-৩০’ যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
মার্কিন ম্যাগাজিন ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট জানিয়েছে, সুখোই যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা করতে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুসেইন দেঘান আজই(১৬ ফ্রেবুয়ারি) মস্কো যাচ্ছেন। যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মিসাইল স্থাপনের জন্য আলমাস-আন্তে এস-৩০০ মিসাইল নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা স্পুটনিকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের আকাশসীমা নিরাপদ রাখতে বিমানবাহিনীর এই ধরনের বিমানের প্রয়োজন রয়েছে। তাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার মস্কো সফরে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে আলোচনা করবেন।’
এরআগে ইরানের সরকারি টেলিভিশনে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের বরাতে মাহের নিউজ এজেন্সি জানায়, বিমানবাহিনীকে আরো বেশি শক্তিশালী করার প্রয়োজন তেহরানের রয়েছে। সেই বক্তব্যে দেঘান সুখোই-৩০ বিমানের কথা উল্লেখ করলেও সেটা কোন ভার্সনের হবে তা পরিস্কার করেনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেঘান বলেন, ‘বিমানবাহিনীর প্রতি এখন আমাদের নজর দেওয়া দরকার। আর এই জন্য রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধবিমান বানানোর কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।’
বিশ্লেষকদের ধারণা ইরান সেই ভার্সনের সুখোই যুদ্ধবিমান চায় যেটা ভারত, মালয়েশিয়া, আলজেরিয়া ও রাশিয়া নিজে ব্যবহার করে। এমনকি আরো একধাপ এগিয়ে ইরান সুখোই-৩০এম২ চাইতে পারে। এটি রাশিয়ার বিমানবাহিনী নিজস্বভাবে ব্যবহার করে।
তবে যুদ্ধবিমানের ভার্সন ইরানের অর্থনীতির উপর করে। অর্থের সংকুলান না হলে আপাতত সুখোই-৩০ কিনে পরে নিজেরাই এই মানের বিমান তৈরির প্রকল্প হাতে নিতে পারে। আর ইরানের সুখোই প্রীতিই ঘুম হারাম করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের।







