ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়স্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভাব গাম্ভীর্যের মধ্যে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২২ পালিত হয়েছে।
দিবসটি পালন উপলক্ষে ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজ সামিনা নাজ জাতীয় সংগীত সহকারে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণ, ১ মিনিট নিরবতা পালন, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত মিজ সামিনা নাজ সকালে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন। ভিয়েতনামে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা এবং ভিয়েতনামের নাগরিক ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত সমবেত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানান। ইউনেস্কো কর্তৃক মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালনের জন্য প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সকল ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সকল বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহব্বান জানান। একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকল প্রবাসী বাংলাদেশী ভাই বোনকে এক সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তাদের মূল্যবান অবদান রাখার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে তাদের কষ্টার্জিত টাকা ব্যাকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেরণ পূর্বক সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা গ্রহণ করার জন্যও অনুরোধ জানান।
কোভিড মহামারীর সতর্কতার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় ও জনসমাগম-এর উপর নিষেধাজ্ঞা থাকার জন্য দিবসটি স্বল্প সংখ্যক অতিথি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারবর্গ-এর মাধ্যমে চ্যান্সারীতে উদ্যাপিত হয়। অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের উপর নির্মিত ১টি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন এবং অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে ধন্যবাদ ও বাংলাদেশী খাবার আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় ।









