মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী নাজিব তুন রাজাকের নির্দেশের পর অভিবাসীদের খোঁজে আন্দামান সাগরে অভিযানে নেমেছে মালয়েশিয়ার নৌবাহিনীর ৪ টি জাহাজ। ভাসমান রোহিঙ্গা অভিবাসীদের উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে আশ্রয় দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। অভিবাসী সমস্যা নিয়ে আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় জরুরী বৈঠকে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগরে এখনও ভাসমান ৭ হাজার রোহিঙ্গা এবং বহু সংখ্যক বাংলাদেশী। প্রথমে তাদের ফিরিয়ে দিলেও এখন সাময়িক আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া। এরকম অবস্থায় অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসার ইচ্ছা জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেরি হার্ফ জানিয়েছেন, চরম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউএনএইচসিআর’র উদ্যোগে বহুজাতিক যে কোনো প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহুজাতিক এই রোহিঙ্গা সমস্যাটি সমাধান করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে চায় এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র মাধ্যমে পৃথিবীর সবচাইতে ঝুঁকিপূর্ণ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করতে চায়।
সাগরে আটকে থাকা অভিবাসীদের উদ্ধার ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার যেনো একসঙ্গে কাজ করে, সে জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতিও আহবান জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এরকম ইচ্ছার মধ্যে আন্দামান সাগরে ভাসমান শরণার্থীদের অনুসন্ধান এবং উদ্ধারে তার দেশের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে নির্দেশ দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব তুন রাজাক। এরপর সাগরে ভাসমান অভিবাসীদের উদ্ধারে অভিযানে নামে মালয়েশিয়ার নৌবাহিনীর ৪ টি জাহাজ।
রোহিঙ্গা অভিবাসন প্রত্যাশীদের সঙ্কট সমাধানে আলোচনা করতে মিয়ানমারে গেছেন মার্কিন উপ পরারাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। আরো আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছেন মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
সাগরে ভাসা রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নিতে মিয়ানমার সরকার এর আগে অস্বীকৃতি জানালেও অভিবাসী সমস্যা নিয়ে আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডের বৈঠকে অংশ নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার।







