ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমঝোতা স্মারককে যুগান্তকারী মনে করছে সরকার। এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে আরও লাভবান হতো দেশ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় জ্বালানী খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সমঝতা স্মারক সই করে ভারতের দুটি প্রতিষ্ঠান। এ সমঝোতা অনুযায়ী বিশেষ আইনে বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ পাবে ভারতের রিলায়েন্স ও আদানী গ্রুপ।
গ্যাস ভিত্তিক ৩ হাজার মেগাওায়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে রিলায়েন্স গ্রুপ। আর কয়লা ভিত্তিক ১ হাজার ৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২শ’ ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে আদানী গ্রুপ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এ প্রকল্প দুটি উৎপাদনে এলে ২০২১ সালে বিদ্যুতের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা পূরণ করা আরও সহজ হবে।
তিনি বলেন, সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উপাদন করতে ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। এই বিনিয়োগের কারণে সারাবিশ্বে আমাদের দেশের ইতিবাচক প্রচারণা হয়েছে।
এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ আইনে বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের মতো জরুরী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন আর নেই। ভারতের রিলায়েন্স আর আদানীর সাথে দেশীয় উদ্যোক্তদের এ প্রকল্পে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া যেতো বলেও মনে করেন তারা।
বুয়েটের জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকা উচিৎ। কী দামে আমরা বিদ্যুৎ কিনবো সেটাসহ অন্যান্য শর্তগুলো আগেই আলোচনা করা উচিৎ। আমরা এই প্রজেক্টের সবকিছুতে ভারতকে ছাড় দিলে তারা অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাবে।
তবে সার্বিকভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে বিদ্যুৎখাতে এ সমঝোতা স্মারককে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন এই জ্বালানী বিশেষজ্ঞ।
এছাড়াও স্থল সীমানা, যোগাযোগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ২২ টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয় দুই দেশের মধ্যে।







