চ্যানেল আই পরিদর্শনে এসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, আর্থ-সামাজিক দিকে থেকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে প্রথম কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া পরিদর্শনের অংশ হিসেবে চ্যানেল আই ভবনে পৌঁছালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিলো তখন তার বয়স ১৮ উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন, আমরা তখন মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা জেনেছিলাম।
‘তখন আমাদের ধারণা ছিলো বাংলাদেশ অত্যন্ত দরিদ্র। কিন্তু বাংলাদেশে এসে আমার ধারণা বদলে গেছে। আর আমি রাষ্ট্রদূত হয়ে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই তো বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলো,’ এভাবেই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে নিজ থেকেই বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ছিলো আফ্রিকার দেশ মালি। তখন থেকেই বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করেন উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন, ১৯৮৮ সালের দিকে এই অঞ্চলে আমি ডেপুটি পলিটিক্যাল কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছি। তাই আগে থেকেই এ দেশে আসার খুব ইচ্ছে ছিলো।
ভুটান এবং মালদ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিক্যাল কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করলেও বাংলাদেশকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখছেন এ পেশাদার কূটনীতিক।
বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, মিডিয়া হলো গণতন্ত্রের প্রাণ। এটি এমন একটি বন্ধন যা রাজনীতিবিদদের দায়বদ্ধ করে। এখন আগের চেয়ে মানুষ অনেক শিক্ষিত। তাই মিডিয়ার গুরুত্ব বাড়ছে। মানুষ প্রতিদিনের খবর জানার জন্য মিডিয়াতে চোখ রাখে।
দিনদিন সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব বাড়ছে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্ব এখন অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।
‘সারাবিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের যতো মিশন রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র অ্যাম্বাসির ফ্যান পেজের ফলোয়ারের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি,’ জানিয়ে তিনি বলেন: প্রতিদিন মানুষ এই পেজে এসে তাদের মতামত জানাচ্ছে।
বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যম থেকে আমন্ত্রণ থাকলেও সবার আগে চ্যানেল আইয়ে আসার ইচ্ছে ছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে চ্যানেল আইয়ের ভূমিকা রয়েছে। কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি তারা পুষ্টি উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে এক্ষেত্রে চ্যানেল আই এবং কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।
চ্যানেল আই পরিদর্শনের পাশাপাশি শাইখ সিরাজের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্যও তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন বলে জানান বার্নিকাট।
চ্যানেল আই সংবাদকক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এডিটর, নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, সাইফুল আমিন। সেসময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের প্রধান মেরিনা ইয়াসমিন।
চ্যানেল আই সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার কথা উল্লেখ করে চ্যানেল আই নিউজ এবং চ্যানেল আই অনলাইনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী কর্মীর উপস্থিতি এবং তাদের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকার প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
পরে তার হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ।






