ভারতকে কোন অবস্থাতেই বিব্রত করা উচিত হবে না বিধায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সীমান্ত অতিক্রম করে চীনে যেতে বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এ প্রকাশিত সিনিয়র সাংবাদিক এবং দ্য স্টেটসম্যান এর সাবেক সম্পাদক মানাস ঘোষ এর কলামে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর তৎকালীন আঞ্চলিক প্রধান গোলক বিহারি মজুমদারের অপ্রকাশিত স্মৃতি থেকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে এমন বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।
এই তথ্যসহ আরও কিছু অব্যক্ত ইতিহাস গোলক বিহারী মজুমদার’স আনপাবলিশড মেমোরিস-এ রয়েছে, গত জুলাই মাসে আকস্মিক মৃত্যুর ফলে তা তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। গোলক বিহারী ‘পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল’ (পিভিএসএম) লাভ করা প্রথম সিভিলিয়ান।
২৫ শে মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রক্তাক্ত অভিযানের সময় বঙ্গবন্ধু আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবেন না এবং ধানমন্ডিতে নিজের বাসাতেই অবস্থান করবেন বলে মনস্থির করেছিলেন। কিন্তু যদি তাকে গ্রেপ্তার বা হত্যা করা হয় তবে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড তাজউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে প্রথমে চীনে যাওয়ারই নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে চীন যদি সাহায্য করতে না চায় তবে শেষ ভরসা হিসেবেই ভারতীয় সাহায্যের চেষ্টা করতে হবে বলেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের নয় মাসের মুক্তি সংগ্রামে ভারত, নির্বাসিত বাংলাদেশের নেতৃত্ব এবং ভারতে প্রশিক্ষিত মুক্তিবাহিনীর মধ্যে যোগসূত্র ছিলেন গোলক। সংকটকালীন সেই সময়ে তিনি সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির কাছ থেকে আদেশ পেতেন। ইন্দিরা গান্ধীও গোলকের প্রজ্ঞায় যথেষ্ট আস্থা রাখতেন। ‘যা উপযোগী মনে হয় করুন, জাতীয় স্বার্থের জন্য সঠিক বিবেচনায় যতদুর যেতে হয় যান’। গোলকের প্রতি এমনই ছিলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা।






