বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) নয় বরং যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে-ই ইসলামী জড়িত বলে সন্দেহ করছে ভারতীয় গোয়েন্দারা। যুদ্ধাপরাধে আটক মতিউর রহমান নিজামীর মতো কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিচার বাধাগ্রস্থ করতেই জামায়াতের জঙ্গিরা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
ইতালীয় ও জাপানি নাগরিক হত্যায় আইএস নয়, জামায়াত জড়িত বলে ভারতীয় গোয়েন্দা ধারণার কথা প্রকাশিত হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ায়।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক উর্ধতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধের দায়ে খুব শীঘ্রই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের রায় কার্যকর হবে। এমন অবস্থায় বিদেশী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এর নামে তা চালিয়ে দিয়ে জামায়াত এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করছে। কারণ আইএস কে বাংলাদেশে তৎপর দেখানো গেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সমালোচিত হবে এবং পশ্চিমাদের তারা দেখাতে চায় শেখ হাসিনার সরকার নিরাপত্তা ইস্যুতে ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য সরাসরি পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ দিতেই সুকৌশলে বিদেশীদের হত্যা করা হয়েছে।
বিভিন্ন পশ্চিমা মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যায় আইএস দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ড দুটির ধরণ আইএস এর প্রচলিত কর্মকাণ্ডে কিংবা অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেলে না বলে জানান ভারতীয় ওই সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
কারণ আইএস এর প্রচলিত হত্যায় টার্গেটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিরোচ্ছেদ এবং হত্যার ভিডিও টেপ ছাড়া হয়। অথচ বাংলাদেশে দু’জন বিদেশীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুজব থাকলেও হত্যাকাণ্ড দু’টিতে এখনো আইএস এর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনদের সঙ্গেও আইএস’র সংশ্লিষ্টতার তথ্য নেই। আসলে এই দুই হত্যাকাণ্ডে আইএস এর দায় স্বীকার গুজব ছাড়া এখনো আর কিছু নয়।







