বড়দিনের আনন্দে মেতেছে এখন ইউরোপসহ সারা দুনিয়া। আর সেই আয়োজনে সামিল হয়েছেন ফুটবলার ও তাদের পরিবারও। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চলছে তাদের আনন্দ উদযাপন।
এরইমধ্যে ছুটি চলছে ক্লাবগুলোতে। বার্সেলোনার মহাতারকা লিওনেল মেসি বড়দিনের ছুটি কাটাতে চলে গেছেন তার বাড়ি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে।
ইনজুরির কারণে লিগে পিএসজির একটি ম্যাচ বাকি থাকতে বেশ কয়েকদিন আগেই ব্রাজিলে চলে গেছেন নেইমার। তবে ঘরে ফিরতে পারেন নি আরেক বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। একদিন বাদেই সিরি অ’র ম্যাচ। তাই বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজ ও সন্তানদের নিয়ে উৎসব চলছে ঘরেই।
ইউরোপিয়ান ফুটবলে বড়দিনের ছুটি শুরু হয়ে গেলেও শীর্ষ পাঁচ লীগে ব্যতিক্রম কেবল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও ইতালিয়ান সিরি অ। ক্রিসমাসের পরদিন জমজমাট বক্সিং-ডে ম্যাচের পসরা বসবে সেখানে। বছর শেষের আগে আরো এক রাউন্ড খেলা রয়েছে। এরপরই বড়দিনের ছুটিতে যাবেন রোনালদো-আগুয়েরোরা। আর প্রিমিয়ার লিগ ও সিরি অ’তে আগামী ১২ই জানুয়ারি আবার ম্যাচের ব্যস্ততা শুরু হবে। তাই ছুটিটা বেশ লম্বাই।
সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে গত শনিবারের ম্যাচ শেষেই বড়দিনের ছুটির আমেজ শুরু হয়ে যায় বার্সেলোনায়। লা লিগায় বছরের শেষ ম্যাচে জয়ের (২-০) রাতেই পরিবার নিয়ে বার্সেলোনা বিমানবন্দরে চলে যান বার্সা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সঙ্গে ছিলেন জীবনসঙ্গী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো আর তিন সন্তান, থিয়াগো, মাতেও ও চিরো।
ক্রিসমাসের ছুটি কাটাতে জন্মস্থান আর্জেন্টিনার রোজারিওতে উড়াল দেন মেসি। ব্যক্তিগত জেট বিমানে ক্লাব সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও তার পরিবারকেও দেখা যায়। আর রোজারিওতে নামার পর সুয়ারেজের পরিবারকে নামিয়ে আনা হয় উরুগুয়েতে।
মেসি-সুয়ারেজসহ বার্সার সাউথ আমেরিকার সব খেলোয়াড়ই ২রা জানুয়ারি পর্যন্ত বড়দিনের ছুটি পাচ্ছেন। এর বাইরে মুনির এল হাদ্দাদি রয়েছেন সেই তালিকায়।
দলের অন্য সদস্যদের ৩০শে ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরতে হবে ন্যু ক্যাম্পে। রোজারিওর মালভিনাস বিমানবন্দরে নামার পরই বরাবরের মতো মেসিকে ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। বিমানবন্দরের অনেক কর্মী এ সময়ে মেসির সঙ্গে ছবি তোলেন।
গত শনিবার রাতেই মেসি-সুয়ারেজ ছাড়াও বার্সেলোনা বিমানবন্দরে যান ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান ডেম্বেলেকে। গন্তব্য অবশ্যই ফ্রান্স। কয়েকজন বন্ধু নিয়ে ব্যক্তিগত বিমানে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। স্প্যানিয়ার্ড মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটসও এবার পরিবার নিয়ে প্যারিসে বড়দিন কাটাতে গেছেন।
ঘরের আনন্দ ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন রোনালদো। সান্তাক্লজের সঙ্গে ছবি তুলে জর্জিনা পোস্ট করেন ইনস্ট্রাগ্রামে। একফ্রেমে পরিবারের সবার এই ছবিটা ছড়িয়ে পড়েছে অন্তর্জালে। যেখানে জুভেন্টাস তারকা রোনালদোর প্রেমিকা জর্জিনা। আর লিখেছেন, ‘তুরিনোর নতুন বাড়িতে ক্রিসমাস সেলিব্রেশেন শুরু।’
সোমবার বড়দিনের আগের রাতে আনন্দে মেতেছেন আরেক ফুটবলার ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন। ইংলিশ অধিনায়ক তার বাড়িতেই ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়েছেন। যেখানে রেখেছেন এ বছর রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে জেতা গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপে সবচেয়ে গোল করে সোনার বুট পেয়েছেন তিনি।
আরেক ইংলিশ ফুটবলার জর্ডান পিকফোর্ডের সাজানো ক্রিসমাস ট্রি দেখলে চমকে উঠাই স্বাভাবিক। পুরো ট্রি জুড়ে বরফের দেশের ভাল্লুক। সামনে দাঁড়িয়ে আছে তারই পোষা কুকুরের ছানা।
এই ছুটির আনন্দে সন্তান নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি। বায়ার্ন মিউনিখের এই পোলিশ ফুটবলার কন্যাকে স্লেজ গাড়ি চাপিয়ে নেমে পড়েছেন বরফে।








