বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, শুধু বাংলাদেশে নয় অন্যান্য দেশেও ব্যাংকিং খাতে ঋণ অনিয়ম হয়। তবে এ খাত নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আশা করি এ বিষয়ে অর্থন্ত্রণালয় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিজিএমইএ আয়োজিত ‘তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণ এবং সহজীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যদিও ব্যাংকিং খাত নিয়ে অর্থমন্ত্রীর কথা বলার কথা। তারপরও যেহেতু সরকারে আছি, তাই আমাদেরও কথা বলতে হয়। আশা করব, অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাংক খাত নিয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ব্যাংক খাত বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয় ভারতেও একজন বড় ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের বিরোধীদলীয় নেতা সেদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন। অর্থাৎ সব দেশেরই ব্যাংকিং খাত নিয়ে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশে ব্যাংক ঋণ নিয়ে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। অনেকে জেলে আছে। কাউকে ছাড় দেয়া হয়নি। আমরা ক্ষমতায় থেকে কাউকে ঋণ দিতে সুপারিশ করি না। কেউ বলতে পারবে না। ব্যাংক তাদের নিয়মে ঋণ দিচ্ছে।
তবে ব্যাংকগুলোরে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের উচিত সঠিক নিয়ম মেনে ঋণ প্রদান করা এমন পরামর্শ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন: ভালো গ্রাহককে ঋণ দেয়া উচিত। কারণ ব্যাংক ঋণ না দিলে শিল্প বাড়বে না। ব্যাংকিং খাতের কারণে ব্যবসা প্রসার হচ্ছে। বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি ব্যাংকের টাকা দিয়ে হচ্ছে। কিম্ত ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে সঠিক জায়গায় ঋণ দিচ্ছি কিনা।
পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপার কেলেঙ্কারিতে যাদের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে সরকার কোন পদক্ষেপ নেবে কিনা জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন: মানিলন্ডারিং বা অর্থপাচার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে। এর আগে মানিলন্ডারিং অভিযোগে অনেকের বিষয়ে মামলা হয়েছে। সাজাও হয়েছে। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে যাদের নাম এসেছে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কর্মশালায় উপস্থিত আরো ছিলেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিআইডিএস’র সিনিয়র ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ, বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির প্রমুখ।








