তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ হয়েছে। অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তুর্কি সুপ্রিম কোর্টের ২ হাজার ৭শ’ ৪৫ জন বিচারককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ১’শ ৮৮ জন বিচারপতির নামে জারি করা হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী প্রায় সব সেনা সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে, আটক করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার বিদ্রোহী সেনাকে।
রাতভর সংঘর্ষে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২’শ ৬৫ জন নিহত হয়েছে । তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বিদ্রোহী সেনা। অভ্যুত্থানে ব্যর্থ হয়ে গ্রিসে আশ্রয় নেয়া ৮ বিদ্রোহী সেনাকে হেলিকপ্টারসহ ফেরত পাঠিয়েছে তুরস্কের প্রতিবেশী দেশটি।
তুরস্কে বাংলাদেশি নাগরিকরা নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে তাদের চলাফেরায় সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর যেকোনো প্রয়োজনে আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাস অথবা ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেট জেনারেলের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
অভ্যুত্থান চেষ্টার পেছনে জড়িতদের চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এরই মধ্যে আটক সেনাদেরকে নির্যাতন এবং এক সেনাকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এরদোগান সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ঘোষণার পর আজ শনিবার তুরস্ক পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশনে সেনা বিদ্রোহের নিন্দা জানায় দেশটির সব রাজনৈতিক দল। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বিনালি ইলদ্রিম একে দেশটির ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি কালো দাগ’ মন্তব্য করে সেনাবাহিনীর একাংশের এই ‘অপচেষ্টা’র ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে ঘোষণা দেন।সেসময় অন্যান্যদের মধ্যে সদ্য উদ্ধার পাওয়া তুর্কি সেনাপ্রধান জেনারেল হুলুসি আকারও উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার রাতে সরকার উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখলের দাবি করে অভ্যুত্থান চালানো হলেও তা নস্যাৎ করে পুনরায় তুরস্ককে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে দেশটির ইসলামপন্থী সরকার। অভ্যুত্থানের ঘটনার পর অব্যাহতি দেয়া হয় ৫ জেনারেলকে। কয়েক ঘন্টা বন্ধ থাকার পর চালু হয় ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা বিমানবন্দর। সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টাকে ব্যর্থ করতে সরকারের আহ্বানে এগিয়ে আসায় তুরস্কের জনগণের প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। অভ্যুত্থানের ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর বিপথগামীদের দমনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। 
তবে এই অভ্যুত্থানের পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী কে, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। এরদোগান অবশ্য এ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পেছনে ক্ষমতাশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের হাত রয়েছে বলে তাৎক্ষণিকভাবে দাবি করেছিলেন। কিন্তু এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ অস্বীকার করে গুলেন অভ্যুত্থানের নিন্দা জানান।
সরকার উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখলের দাবিতে শুক্রবার রাতে পার্লামেন্ট ভবনে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থান শুরু করে তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ। ‘শান্তি পরিষদ’ এর নামে সান্ধ্য আইন ও সামরিক শাসন জারির ঘোষণা দেওয়া হয় বিবৃতিতে।
তুরস্কে ক্ষমতাসীন জামায়াত ঘরানার দল জাস্টিস পার্টি দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করছে অভিযোগ এনে অভ্যুত্থানকারীরা কৃর্তৃত্ববাদের পাল্টা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিল।







