ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে লিটন দাস অতটা ধারাবাহিক ছিলেন না। তবে নিজের অভিষেক ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ফতুল্লায় ৪৪ রানের ইনিংসটা যেভাবে সাজিয়েছিলেন তাতে তাকে ঘিরে বেড়ে যায় প্রত্যাশা। ব্যর্থতার নানা অলিগলি পেরিয়ে লিটন এখন ফর্মের তুঙ্গে। ধারাবাহিকতার পসরা সাজিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
টেস্টে সবশেষ ৯ ইনিংসে লিটন করেছেন ৫০৬ রান। দুঃসময় পেছনে ফেলে সাদা পোশাকে সাফল্যের রঙিন দুনিয়া দেখছেন এ ক্রিকেটার। নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বাড়ছে আরও ভালো করার প্রত্যাশা।
তবে এটিকে আর চাপ হিসেবে নেবেন না লিটন। নিজের মতো করে খেলেই দলে অবদান রাখতে চান। দলের চাওয়া, সমথর্কদের প্রত্যাশা মেটানোর চেষ্টায় থাকতে চান। সবসময় যে সেটি সম্ভব নয় সেটিও উপলব্ধি করেন এ ক্রিকেটার।
ক্রিকেট নিয়ে ভাবনার মাঝেই যে কত বদল এসেছে তা লিটনের কথাতেই ধরা দেয়। সাম্প্রতিক ফর্ম ও আগের সমালোচনা প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘চেষ্টা সবসময় করি। কিছু সময় ব্যর্থ হই, কিছু সময় সফল হই। এটাই ক্রিকেট, এভাবেই চলতে থাকবে। আজকে ভালো করেছি, কালকে আবার খারাপ হলে হতেও পারে। এটাই মানুষের জীবন, এটা নিয়েই চলতে থাকবে।
‘সমালোচনা হবেই। আমার যেহেতু জীবনটা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে, ভালো কেললে আপনারা বাহবা দেবেন বা জনগন দেবে, খারাপ খেললে সেইম জিনিসটাই করবে (সমালোচনা)। কারণ তারা চায়, আমি পারফর্ম করি। এই জিনিসটা আমাকে আর বদার করে না। আমি চেষ্টা করি, আমি কতখানি মনোযোগী অনুশীলনে, প্র্যাকটিস মেথডটা কি, আমার প্রক্রিয়টা অনুসরণ করছি কিনা। আমি যদি আমার প্রক্রিয়া ফলো না করলে নিজের কাছে অপরাধী যে অনুসরণ করছি না। আমি স্রেফ আমার প্রক্রিয়া অনুসরণ করার চেষ্টা করি। ফলাফল, ওপরওয়ালার হাতে।’
আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে লিটন জানালেন দুঃসময়ের উপলব্ধিই তাকে নিয়ে যাচ্ছেন সামনে, ‘না কেউ, কাউন্সেলিং (ভালো করার পেছনে) করে না। মানসিকভাবে শক্ত থাকা আসলে লোকে যখন ব্যর্থ হয়, তখনই আস্তে আস্তে মাথার মধ্যে চলে আসে। উন্নতি সেখান থেকেই হয়। ব্যর্থ না হলে কখনও বুঝবেন না আপনার মানসিকতা কোন দিকে যাচ্ছে।








