সাকিবদের গুরু নাজমুল আবেদীন ফাহিম বৃহস্পতিবার যখন টিভির সামনে বসবেন, তখন মাথায় একটা ‘চিন্তা’ থাকবে। সেই চিন্তা তাকে ম্যাচের আগেরদিনও ঘিরে ধরেছে বলে মনে হল। মুঠোফোনে বললেন, ‘আমি ছেলেদের বোলিংটা নিয়ে চিন্তিত। ভারতীয়দের বিপক্ষে বোলরারা ভালো করতে না পারলে অথৈ সাগরে পড়তে হবে।’
আগামীর তারকা খুঁজে বের করাই একসময় ছিল নাজমুল আবেদীনের প্রধান কাজ। এখন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগে ন্যাশনাল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। সাকিব-মুশফিকদের খুঁটিনাটি অনেকের থেকে ভালো জানেন তিনি। তাই চিন্তাটাও মনে হয় অন্য সবার থেকে বেশি, ‘ব্যাটসম্যানদের সমস্যা হবে না। ভারতের যে ব্যাটিং লাইনআপ, তাতে চারশো রানও নিরাপদ নয়। ব্যাটসম্যানরা তাই তাকিয়ে থাকবে বোলারদের দিকে।’
নাজমুল আবেদীনের চিন্তাটা অমূলক নয়। প্রস্তুতি ম্যাচের চিত্রই মূলত এই চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচটিতে ভারতীয় ‘এ’ দলের তিনজন সেঞ্চুরি করেন। যে মিরাজকে ঘিরে আশা, সেই তাকে ভারতীয়রা অনায়াসে খেলেছেন। ১৬ ওভারে ৯২ রান দিলেও মিরাজ উইকেট বের করতে পারেননি। ওই ম্যাচে মোট আটজন বল করেন। তাদের মধ্যে ছয়জনই উইকেটহীন!
বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বল করেন তাইজুল ইসলাম। তিন উইকেট পান বটে, কিন্তু খরচ করেন ১৪২টি রান। আরেক উইকেট শিকারি শুভাশিস তিন উইকেট নিতে খরচ করেন ৫৭ রান। বাকি ছয়জন শুধু বল করেছেন আর রান দিয়েছেন।
আসল লড়াইয়ে তাইজুলকে মাঠে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। পেস বহরে তাসকিন যুক্ত হতে পারেন। স্পিন আক্রমণে সাকিব তো থাকছেনই। তাই বলে ওই চিন্তাটাও কমছে না।
বাংলাদেশ প্রায় দেড় মাসের মতো নিউজিল্যান্ডে ছিল। পেস উইকেটের আঁচ সহ্য করতে হয়েছে সেখানে। ওই কন্ডিশন থেকে ফিরতে না ফিরতে ভারতের মাঠে বোলাররা কেমন করবে তা নিয়েও চিন্তার শেষ নেই নাজমুল আবেদীনের, ‘নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত ছিল না ছেলেরা। ওখানে থেকে এখানে (ভারতে) কেমন ইমপ্যাক্ট পড়বে, সেটা একটা ব্যাপার।’
‘যে কদিন অনুশীলনের সুযোগ মিলেছে, তাতে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারলে ভালো কিছুর সুযোগ আসবে। সেটা কাজে লাগাতে হবে।’ উত্তরসূরিদের জন্য পরামর্শ দেন নাজমুল আবেদীন।
বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পায় সেই ২০০০ সালে। এরপর কালেভদ্রে সাদা পোশাক উঠেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের শরীরে। এই সময়ে ওয়ানডেতে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশের দেখা মিললেও, টেস্টে সেই আনাড়ি ভাব এখনো চোখে পড়ে। কোহলি প্রথম টেস্ট খেলেন ২০১১ সালে। ৬ বছরে তিনি মোট টেস্ট খেলেছেন ৫৩টি। মুশফিকের অভিষেক হয় ২০০৫ সালে। ১২ বছরে তিনি সুযোগ পেয়েছেন ৫১টি ম্যাচ খেলার!
‘একটা সময় ছিল শক্তিশালী দেশগুলো আমাদের সঙ্গে খেলতে চাইতো না। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়ও জড়িত। পরিস্থিতি আগের মতো নেই। যে কোনো দেশ এখন ওয়ানডে খেলতে চায়। একদিন টেস্টেও এমন হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সবাই খেলতে মুখিয়ে থাকবে,’ ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসে বর্ষীয়ান ক্রীড়াবিদ নাজমুল আবেদীনের সুর। স্বপ্নকে সত্যি করতে যেন লয়ে মিশতে চায় ওই একই সুর!








