পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে অস্ত্রধারীদের গুলিতে ১৯ জন বাস যাত্রী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাতে অস্ত্রধারীরা করাচীর ২টি বাস থেকে প্রায় ২৪ জনকে অপহরণ করে এবং মাস্তুঙ্গ প্রদেশ থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে খাদ কোচার পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে ১৯ জনকে হত্যা করেছে।
বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মীর সরফরাজ আহমেদ বুগতি বলেন, এখনো অস্ত্রধারী হত্যাকারীদের পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের পোশাক পড়া ছিল।
তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তাকর্মীরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনা স্থলে চলে যান। তারা পাহাড়ের কাছে ১৯ জনের মৃত দেহ পান। নিরাপত্তাকর্মীরা অপহরণকারীদের কাছ থেকে ৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। মৃতদেহগুলো সনাক্ত করার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একটি বাসের চালক এই গোলাগুলিতে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং তাকে সান্দেমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, অস্ত্রধারীরা তাকে বাস থামানোর সংকেত দিলে তিনি আরো দ্রুত গতিতে বাস চালাতে থাকেন। তারপর অস্ত্রধারীরা গুলি ছুড়তে থাকে।
শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ এই বাস ২টির যাত্রীরা পিশিন ও কোয়াতা থেকে করাচি যাচ্ছিল। এই ঘটনার পর বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্র সচিব (অবঃ) ক্যাপ্টেন হুসেইন দুররানি বলেন,অস্ত্রধারীরা প্রায় ৩০ জন বাসযাত্রীকে অপহরণ করেছিল। এর মধ্যে কিছু দূর যেতেই তারা ৫ জনকে ছেড়ে দিয়েছে। অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অপারেশন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার নিরাপত্তাকর্মীদের ২টি হেলিকপ্টার দিয়েছেন। রাতের অন্ধকারের সুবিধা নিয়ে অস্ত্রধারীরা অপহৃত যাত্রীদের নিয়ে পালিয়ে যেতে পেরেছে এবং কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে কোনো একটি পাহাড়ের ভিতর লুকিয়ে আছে তারা।
কর্তৃপক্ষ ধারণা করছেন প্রায় ১৫ জন অস্ত্রধারী এই সহিংসতা ঘটিয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা জানায়, বাস যাত্রীদের অপহরণ করার আগে তারা যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র চেক করেছে।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বেলুচস্তানের প্রধানমন্ত্রী ড. আবদুল মালিক বালোচ বলেন, অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে তারা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই সহিংসতার পর তিনি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মীর সরফরাজ আহমেদ বুগতি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।







