বিপিএলে ভাল খেলে জাতীয় দলের দরজায় ঢুকে পড়া ক্রিকেটার কম নেই। তাসকিন, বিজয়, শামসুর, আবু হায়দাররা বিপিএলের মঞ্চ রাঙিয়েই জায়গা করে নেন বাংলাদেশ দলে। চলতি আসরে সম্ভাবনার জানান দিয়ে আলোচনায় খুলনার অলরাউন্ডার আরিফুল হক। বল হাতে না নিলেও ব্যাটে জিতিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ম্যাচ। শেষ চারে উঠেছে তার দলও। প্রশংসিত হয়েছে তার ফিনিশারের ভূমিকা।
জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন খুলনা টাইটানসের পরামর্শক। কাছে থেকে দেখছেন আরিফুলের ব্যাটিং। এই নির্বাচকের কথায় ইঙ্গিত মিলল ‘এ’ দল ও বিসিবি হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) দলে নতুন বছরেই হয়ত দেখা যাবে আরিফুলকে।
‘তার পারফরম্যান্স মুগ্ধ করার মতো। চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্স আরও অনেকেই করেছে। আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুযায়ী যারা ভাল করেছে, তারা এইচপি টিম বা ‘এ’ টিমে কিন্তু খেলেছে। ওখান থেকে নিজেকে পরের ধাপে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারটা সেই খেলোয়াড়টিরই।’
বিপিএলের গত আসরে বেশ কয়েকটি ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের ওপেনার মেহেদী মারুফ। বাংলাদেশ দলের নিউজিল্যান্ড সফরের আগে অস্ট্রেলিয়ায় ১০ দিনের ক্যাম্পে ডাক পড়ে তার। মারকুটে এক ওপেনারের আবির্ভাবের অপেক্ষা ছিল। তবে সেই ক্যাম্পের পর তাকে আর জাতীয় দলের আঙ্গিনায় দেখা যায়নি।
মেহেদী মারুফ প্রসঙ্গে বলতে যেয়েই হাবিবুল মনে করিয়ে দিলেন- জাতীয় দলের জন্য প্ল্যাটফর্মটা তারা করে দিতে পারেন, তবে বাকি কাজটা সেই খেলোয়াড়ের, ‘আমরা সবাইকে সুযোগ দিয়ে থাকি। যে পারফর্ম করে তাকে কোন না কোনোভাবে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করি। পরে সুযোগ কাজে লাগানো ওই খেলোয়াড়টির উপর নির্ভর করে। ভাল খেলাটা তাকেই চালিয়ে যেতে হবে।’

‘আমরা শুধু বিপিএলের উপরই ফোকাস করি না। যাদের বিবেচনায় রাখি, তাদের উপর ছয় মাস থেকে এক বছর ধরেই নজর রাখি। বিপিএলে যারা ভাল করে, তাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচে পারফর্ম করতে সুবিধা। এখানে অনেক আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় খেলে। শেখার সুযোগটা অনেক বেশি।’ যোগ করেন হাবিবুল।
বিপিএল শেষে ১০ দিনের বিশ্রাম পাবেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এরপর শুরু হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজের প্রস্তুতি, ‘আমরা এখনও আলোচনায় বসিনি। বিপিএল শেষ করার পর বসবো। ১০ দিনের মতো হয়ত বিশ্রাম পাবে ক্রিকেটাররা। এরমধ্যে জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডের একটা ম্যাচও আছে। সেটাও হয়ত খেলবে জাতীয় দলের সবাই।’
বাংলাদেশ দলের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করা চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের উত্তরসূরি হিসেবে রিচার্ড পাইবাসের নাম একটু বেশি করেই শোনা যাচ্ছে। পাইপলাইনে আছেন আরও দুজন বিদেশি। কোচ ইস্যুতে হাবিবুল অবশ্য আপাতত কৌশলি, ‘যেই কোচ হোক, বাংলাদেশ দলের ভালর জন্যই আসবেন। আসলে কোচ সবাই ভাল। তাদের কাছ থেকে কতটা কাজ আদায় করছি আমরা, খেলোয়াড়রা কতটা মানিয়ে নিতে পারছে, সেটার উপর সবকিছু নির্ভর করবে।’








