জনপদ

জয়পুরহাটে বিদ্রোহী প্রার্থীর মাইক ভাংচুরে সংঘর্ষ, আহত ১০

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

জয়পুরহাট জেলার মানচিত্র ও অবস্থান চ্যানেল আই অনলাইনের জন্য. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

জয়পুরহাট জেলার মানচিত্র ও অবস্থান দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আ ন ম শওকত হাবীব তালুকদারের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মনোয়ার হোসেনের প্রচার মাইক ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীদের উপর হামলা ও নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করার অভিযোগও পাওয়া যায়। এতে উভয় প্রার্থীর অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে মাত্রাই বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীও বাদী হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীদের নামে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনোয়ার হোসেনের কর্মী আজিজুল হক তার ভ্যানগাড়ীতে মাইক সেট করে দিনভর বিভিন্ন গ্রামে প্রচরণা শেষে রাতে মাত্রাই বাজারে এসে আনারস মার্কার রেকডিং করা গান বাজিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার কর্মী আতিকুর রহমান, সজল ইসলাম, আলম মিয়া, সিবলু মিয়া এবং নাফসি মিলে ওই মাইক ভাংচুর করে এবং আজিজুলকে চর থাপ্পর মারে।

বিদ্রোহী প্রার্থীর মাইক ভাংচুরের ঘটনায় সংঘর্ষ, আহত ১০. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

এ খবর পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসলে উভয় পক্ষের কর্মী সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ৭ জন এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর ৩ জন কর্মী আহত হয়। তারা প্রত্যকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে ফিরেছেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুষ্কৃতিকারীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মাত্রাই বাজারের ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়া গোল্লা বলেন, আজিজুল তার মাইকে আনারস মার্কার গান বাজিয়ে আসার সাথে নৌকা মার্কার কর্মীরা মারপিট করে এবং মাইক ভাংচুর করতে থাকে। পরে বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন আসলে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংর্ঘষে উভয় দলের লোকজন আহত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন ধরে মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করে নিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর হয়ে বিভিন্নজন আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। সেটা যখন ব্যর্থ হয়েছে, তখন আমার কর্মীদের উপর হামলা, ভাংচুর ও মামলা দিতে শুরু করেছে। নির্যাতন করে কখনই আমাকে দমিয়ে রাখতে পারবেন না। বরং দিন যতই ঘনিয়ে আসবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরই ঘুম হারাম হবে। নিশ্চিত পরাজয় ভেবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে কর্মীদের লেলিয়ে দিয়েছেন ওনি। আবার নিজেরাই অফিস ভাংচুর করে উল্টো আমার কর্মীদের ওপর মামলা দিচ্ছে। আমিও অভিযোগ করেছি।

ভাঙা গ্লাসের ভেতরে ক্ষতিগ্রস্ত কাচের চিত্র. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক বলেন, রাতে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীরা আমার কর্মী সমর্থকদের ওপর অর্তকিত হামলা চালিয়েছে। তার কর্মীদের হামলায় আমার সাতজন কর্মী আহত হয়েছে। আমার নির্বাচনী অফিসের আসবাবপত্র এবং বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন , খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। তবে হামলা, ভাংচুর এবং আহতের ঘটনায় বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীদের আসামী করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে। আবার বিদ্রোহী প্রার্থীও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মীদের নামে অভিযোগ দিয়েছে। রাতের ওই ঘটনার পর ওই এলাকায় বর্তমানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিষয়:আহত ১০ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…