সব বিদেশি সফরকারীদের পুরোপুরি ভ্যাকসিন গ্রহীতা হতে হবে এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বাইডেন প্রশাসন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের ওপর দেওয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দেশটি। রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
হোয়াইট হাউজ দেশে আবার সফর চালু করতে চায়, তাতেই কেবল দেশটির বিমান ও পর্যটনশিল্প উন্নত হবে। কিন্তু এখনও সেখানে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রবল বিস্তারের কারণে দ্রুতই নিষেধাজ্ঞা তুলতে তৈরি না তারা।
সেখানকার এক কর্মকর্তা বলেন, বাইডেন প্রশাসনের ভেতরেই একটি কর্মী গোষ্ঠী রয়েছে তারা ‘যখন আমরা ভ্রমণ পুনরায় খুলতে পারবো তখনকার জন্য একটি নতুন সিস্টেম প্রস্তুত করার কাজ করছে’। সেই পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি যা সময়ের সাথে সাথে সীমিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী বিদেশি নাগরিকদের (সব দেশ থেকে) সম্পূর্ণরূপে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলবে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে চীনের উপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। তারপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশ সেই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যোগ হয়। সর্বশেষ মে মাসে ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউজ এখন ওইসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথ খুঁজছে।
গতমাসে রয়টার্সের এক রিপোর্টে বলা হয়, কিভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া যায় তার আলোচনায় হোয়াইট হাউজ বিদেশি ভ্রমণকারীদের ভ্যাকসিন গ্রহণের উপর বেশ জোর দিয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, ওয়ার্কিং গ্রুপটি নতুন কোনো নীতি ও পরিকল্পনা পদ্ধতি তৈরি করছেন যেন সঠিক সময় আসলে নতুন পদ্ধতিতে স্থানান্তর করা যায়।
কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশ ভ্যাকসিন গ্রহণকারী আমেরিকানদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।
হোয়াইট হাউস এয়ারলাইন্স এবং অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করেছে যে এই পদ্ধতিতে কিভাবে বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ভ্যাকসিন প্রয়োজন নীতি বাস্তবায়ন করবে। প্রশাসনকে অবশ্যই কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যার মধ্যে একটি হলো ভ্যাকসিন গ্রহণের কোন প্রমাণ তারা গ্রহণ করবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের গ্রহণ করবে কিনা যে ভ্যাকসিন কিছু দেশ ব্যবহার করছে কিন্তু মার্কিন নিয়ন্ত্রকদের দ্বারা অনুমোদিত হয়নি।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ অ-মার্কিন নাগরিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যারা গত ১৪ দিনের মধ্যে যুক্তরাজ্যে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণবিহীন ইউরোপের ২৬টি শেনজেন দেশ, আয়ারল্যান্ড, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান এবং ব্রাজিল সফর করেছেন।
তারপরও এসব নিষেধাজ্ঞা তুলতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লেগে যাবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।








