আর সময় চাওয়া হবে না মর্মে মুচলেকা দিলে ভবন ভাঙতে বিজিএমইএ’র এক বছরের সময় আবেদনের বিষয় বিবেচনা করবেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তৃতীয়বারের মতো বিজিএমইএ’র সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন।
বিজিএমইএ’র পক্ষে সময় আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, বার বার সময় চাওয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতের সম্মান ক্ষুণ্ণন হচ্ছে।
তবে, বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়: তারা হাতিরঝিলের জায়গা থেকে সরে যাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে একটি জমি কেনার পর আরো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। নেয়া হয়েছে।
তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামীকালের মধ্যেই এ ব্যাপারে তারা জবাব দিতে পারবেন বলে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। সেইসময় রাজউকের ভূমিকার বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রাজউকের পক্ষ থেকে তার কাছে কোন নির্দেশনা নেই।
মঙ্গলবার আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকীও শুনানিতে অংশ নেন।
বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙতে হবে?
রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই বহুতল বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
ওইদিনই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনিরউদ্দিন প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন। পরদিন হাইকোর্ট বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।
২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।
রায়ে বিজিএমইএ-কে নিজস্ব অর্থায়নে ভবনটি ভাঙতে বলা হয়। ভবনটি নির্মাণের আগে ওই স্থানের ভূমি যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয় রায়ে।
ওই বছরের ৫ এপ্রিল বিজিএমইএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে আপিল বিভাগ সে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ান।
তবে, ২০১৩ সালে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ। ২০১৬ সালের ২ জুন ওই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
এরপর রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) আবেদন করে বিজিএমইএ। ২০১৭ সালের ৫ মার্চ রিভিউ আবেদনও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।
এরপর ১২ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবনটি ৬ মাসের মধ্যে ভাঙার নির্দেশ দেন। ওই ৬ মাস সময় শেষ হওয়ার আগেই ভবন ভাঙতে এক বছরের সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ।
এরপর গত ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগ বহুতল ভবনটি ভাঙতে ‘শেষ সুযোগ’ উল্লেখ করে বিজিএমইএ কে সাত মাস সময় দেন।
কিন্তু সাত মাস সময় শেষ হবার আগেই ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করে বিজিএমইএ। আবেদনের শুনানির পর এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২৭ মার্চ দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।
১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন সেসময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে বিজিএমইএ ভবনটিকে তাদের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে।
বহুতল ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোর ভাড়াও দিয়েছে বিজিএমইএ।







