বিচারিক আদালতের বিচারককে প্রভাবিত করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালাস পেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেছেন, যদি চুক্তি করেও আনতে হয়, তাহলে আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করার চেষ্টাও করব। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রায় নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় আনিসুল হক এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিচারিক আদালতের বিচারককে প্রভাবিত করে তারেক রহমান তখন নিজেকে খালাস করিয়েছিলেন এবং খালাস করানোর পরে সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু সেই বিচারক বাংলাদেশ থেকে চলে যান। তারেক রহমানকে দেশে এনে এই সাজা যাতে খাটতে পারে, সেই ব্যবস্থা করার জন্য আইনি যেসব প্রক্রিয়া প্রয়োজন, সেসব প্রক্রিয়া গ্রহণ করব। কিন্তু সেটি করা হবে এই রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পরে।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমান হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন কি না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, লন্ডনে বসে আপিল হবে না। আমরা যদি তাঁকে ধরে আনতে পারি, অথবা তিনি যদি এসে আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে আপিল করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্য থেকে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ কতটা এ বিষয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমানের এত দিন কোনো মামলায় সাজা ছিল না। এ কারণে এত দিন সেভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়নি। এখন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ওই রায়ের দু’দিন পর পরিবার-পরিজন নিয়ে জজ সাহেব মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যান। আসার অনুরোধ করার পরেও, এমনকি চাকরি থেকে নোটিস দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত ফিরে আসেননি।
ঘুষ হিসেবে আদায়ের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা এ মামলার রায়ে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেককে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। আর গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে দেওয়া হয়েছিল সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৪০ কোটি টাকা জরিমানা। খালাসের সেই রায় বাতিল করে বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেককে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকার অর্থদন্ড দেয়। পাশাপাশি মামুনের কারাদন্ড বহাল রাখা হয়।








