জঙ্গি টার্গেট ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিমের দেশ হলেও ইন্দোনেশিয়া অনেকটাই অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এছাড়াও পর্যটন দেশটির বড় একটি অর্থনৈতিকখাত।
এসব কারণে কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সন্ত্রাসী হামলার হুমকি পেয়ে আসছিলো দেশটি। বিশেষ করে হামলার হুমকি ছিলো ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি ও তাদের অনুগত জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছ থেকে।
অাজ বৃহস্পতিবার সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ সেই হুমকিকে বাস্তবে পরিণত করলো। পরপর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বন্দুকযদ্ধে দেশটির রাজধানী জার্কাতা এখন রণক্ষেত্র। আত্মঘাতী বোমায় পুলিশসদস্যসহ এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬ জন। থেমে থেমে এখনো গুলির শব্দ ভেসে আসছে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও হামলার পেছনে আইএস জঙ্গিরা জড়িত বলে ধারণা করছে ইন্দোনেশিয়া পুলিশ।
সম্প্রতি সিরিয়ায় আইএসের হয়ে যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরা দেড়’শ থেকে দু’শ ইন্দোনেশিয়কে মূল সন্দেহের তালিকায় রেখেছে দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট জঙ্গি গোষ্ঠী ইন্দোনেশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তৎপর রয়েছে।
টার্গেট ইন্দোনেশিয়া:
ধর্মনিরপেক্ষ ও পর্যটকবান্ধব ইন্দোনেশিয়া বার বার সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ভয়ঙ্করতম হামলাটি হয় ২০০২ সালে। পর্যটনকেন্দ্র বালি দ্বীপে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ২১ টি দেশের ২০২ জন পর্যটক, যাদের মধ্যে ৮৮ জন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। এই হামলার পেছনে একসময়ের বিভীষিকা আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেমাহ ইসলামিয়া জড়িত বলে প্রমাণিত হয়।
রক্তাক্ত এই অধ্যায়ের পরও ইন্দোনেশিয়ায় জঙ্গিবাদ থেমে যায়নি । এরই নমুনা দেখা যায় ২০০৯ সালে। সেবছর জাকার্তাতেই ম্যারিয়ট ও রিৎজ কার্লটন হোটেলে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ১০ জন।







