বাংলাদেশি চলচ্চিত্র দহনের একটি গান ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে। গানটিতে ‘ইয়াবা খাব’ অার ‘হিসু করব দেয়ালে’ এমন কু-কথা এবং শিল্পরুচিহীন অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি অামি জানতে পারি প্রিয় বন্ধু, গুণী শিল্পী শাহনাজ রহমান স্বীকৃতির স্ট্যাটাস সূত্রে। গানটি যৌথ প্রযোজনার নামে ভারতীয় কোন ছবির নয়, এদেশেরই চলচ্চিত্রের।
ভাবি, কোথায় যাচ্ছে সময়, সামাজিক সম্পর্ক, লজ্জাবোধ। নামতে নামতে কোথায় নামছে মানুষ ? অনুভব করি ,দেশের রাজনীতিবিদদের, ক্ষমতাবানদের নীতিহীনতার গ্রাস ক্রমে ক্রমে সমাজকেও একেবারে ধংস করে দিচ্ছে। ভারতীয় সিরিয়ালের কুটনামী দেশের বহু মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক জীবনকে ফ্যান্টাসির পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়া অাগ্রাসন সর্বত্র। বাংলাদেশের অাবহমান মধ্যবিত্তের চিরায়ত যে জীবন; সেটার সাথে অাজকের বাস্তবতার ফাঁরাক যোজন-যোজনের।
দুই.
বিনোদন, বিকৃতি, ভাড়ামি অার অসভ্যতা চারটি অাসলে সম্পূর্ণ অালাদা বিষয়। শিল্প মানে অসভ্যতা নয়। শিল্পের উদ্দেশ্য, প্রকৃত শিল্পচর্চার ইতিহাস বলে, প্রকৃত শিল্পচর্চায় অশ্লীলতার কোন বিষয় নেই। কাহিনীর, গল্পের বা গানটির কথার হুবহু চিত্রায়নের প্রয়োজনে, পরিচালকের-চিত্রধারনের মুন্সিয়ানায় অনেক ‘কারো কারো চোখে অশালীন’ দৃশ্য বা সংলাপও অপালাপ বলে মনে হয় না।
ইউটিউবে গত ১৪ অক্টোবর ‘দহন’ ছবির ‘হাজীর বিরিয়ানি’ শিরোনামের গানটি প্রকাশিত হয়েছে।
অামি ভেবে পাই না, ‘মাতাল হয়ে হিসু করবো দেয়ালে, শালা…যা হবে তা দেখা যাবে সকালে’’- এমন অসভ্যতার কথা অার গানের চিত্রায়ন বাংলাদেশে হয় কী করে? বাংলা ভাষাকে এ গানের কথায় রীতিমত ধর্ষণ করা হয়েছে। অথচ, এই বাংলা ভাষা ১৯৫২ সালে রক্তের বিনিময়ে স্বীকৃতি জয় করে এনেছিল।
একটি চলচ্চিত্র মুক্তির অনেক অাগে (ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য বোর্ডে জমা দেবার অাগেই) তা ইউটিউবে মুক্তি পায়। এ রীতি বিশ্বজুড়েই। পরিচালক বা সংশ্লিষ্ট সকলের রুচিবোধই ইউটিউবে এখনকার বাস্তবতায় কোন কন্টেন্ট মুক্তি দেবার এ ক্ষেত্রে মূল মানদণ্ড। অনেকে তর্কের খাতিরে বলবেন, ‘দর্শক দেখছে, যুগের চাহিদা।’ মানলাম অাপনাদের কথা। কিন্তু, যুক্তির নামে অাপনি তো কু-যুক্তি চালাতে পারেন না। দর্শক তো পর্নোগ্রাফিরও অাছে, সব সমাজে। কিন্তু পর্নোগ্রাফি সভ্য সমাজে মূলধারার ছবি হিসেবে মুক্তি পায় না।

তিন.
হালে অনেক প্রবাসী বা দেশি সাংবাদিক যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লিখে ও বলে ব্রিটেনে এসাইলাম বাগিয়েছেন, এখন তাদের অনেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেকনজরের লোক বনে গেছেন। অতীতে যেমন বলতেন বেগম খালেদা জিয়ার। অাজকের চেতনা ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ অাবার এরশাদ সাহেবকেও তার নামে কবিতা লিখে দিতেন, যখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন।
অথচ এ শ্রেনীর কিছু প্রাণীই বিলেতে, ইউরোপ-অামেরিকায় রাজনৈতিক বা শরণার্থী হিসেবে অাশ্রয় নেবার জন্য বাংলাদেশ রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ- এমন কথা ধর্মগ্রন্থের নামে অঙ্গীকার করে অাদালতে লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রতিটি এসাইলাম ইন্টারভিউতে বলেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে, জন্মভূমিকে অপমানিত করেছেন নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির প্রয়োজনে, নির্লজ্জ মিথ্যাচারে।
এরপর তারা ভোল পাল্টে ক্ষমতার নজরে পড়ার কড়া তদবির, উৎসুক চেষ্টায় অাছেন, অনেকে সাফল্য পেয়েছেন। অারেকদল বিলেতে বসবাসরত বাঘা বৃদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন, অাছেন। যাদের ইতিহাসের দালিলিক বয়ান বিলেতের বাংলা মিডিয়ার হাউসগুলোর গণ্ডি ছাড়িয়ে কমিউনিটির দেয়ালে দেয়ালে এখনো রয়েছে।
চার.
বিলেতে মেহনত করি জীবিকার জন্য। শতভাগ হালাল রোজগারের অর্থে সন্তান অার মায়ের ভরনপোষন করতে চাই বলে এই পরবাসে অস্থায়ী বসবাস। বহুকাল অাগে বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্টের রঙ বদলাবার সুযোগ হলেও অাইনজীবী অগ্রজসম বিপ্লব দার শত অনুরোধেও নেইনি ব্রিটেনের লাল পাসপোর্ট। অামি সেই দলের লোক হতে পারিনি, সেটা অামার সৌভাগ্য।
প্রেমিকার সাথে সম্পর্ক কতটা নির্ভরতার, ভালবাসার সেটি বোঝা যায় দূরে থাকলে। তেমনি দেশের বাইরে থাকবার বাস্তবতায় বুঝি দেশটা কতটা মমতার, ভালবাসার ঠিকানা।
পাচঁ.
বাংলাদেশ অামার ভালবাসার নাম। বৃষ্টির পর বাংলাদেশের মাটি থেকে যে ঘ্রাণটা বের হয়, সে ঘ্রাণটা অামাকে পোড়ায়; টানে বড্ড। অামার মায়ের সাথে প্রতিদিনের ফোনালাপে রুটিন জিজ্ঞাসা অার ‘কোন মাসে অাসবি’ কথাটির মতো মাটির ঘ্রাণটাও সবসময় অামায় টানে। তাই দেশ ছেড়ে গত কয়েক বছর ধরে অার তিন চার মাসের বেশি টানা লন্ডনে থাকতে পারি না। বাংলাদেশ অাসলেই বুকের নিখাঁদ সত্যের অক্ষরে অামার প্রেমিকার নাম। বাংলাদেশের মাটি-মানুষ অামার হৃদয়ে সন্তান অার মায়ের ভালবাসার কাছাকাছি বসবাস করা মমতার শেকড় । বহুকাল ধরে সাংবাদিকতা অাষ্টেপৃষ্টে জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে। ১৯৯৯ সালে শ্রদ্বেয় সম্পাদক শহীদুজামান অানছার ভাইয়ের সাপ্তাহিক রাজকণ্ঠে প্রথম টু-স্টোক বেবীটেক্সি ঢাকা থেকে জেলা শহরগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে পোড়া মবিলে পরিবেশ দূষণের প্রথম রির্পোটটি বাইনেমে প্রথম প্রকাশিত হয়। স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে থাকে, সে নিউজটি কম্পিউটারে পাশে বসিয়ে কম্পোজ করেছিলেন, সেসময় পত্রিকাটির অন্যতম একজন রুহুল রুহিন ভাই।
ব্লগে এর-ওর গল্প চুরি করে টুকলিফাই করতে করতে, এর ওর স্ট্যাটাস লেখা এখন যেমন কলামিস্ট বনে যাওয়া যায়, তখনও তা এত সুলভে যেত না। যখন টকশোর জন্য তোতাপাখির অায়নার সামনের মুখস্ত বুলি অার ফেসবুক সাংবাদিকতার দিন ছিল না, তখনও টকশোতে বছর চারেক নিয়মিত ছিলাম।
২০০৬ সালে যখন কলাম লেখার শুরুর দিনগুলিতে অগ্রজ সাংবাদিক, সম্পাদক হুমায়েদ অালী শাহীন ভাইয়েরা সপ্তাহান্তে পাতাকুড়িঁতে প্রকাশিত কলামের অনেক লাইনের ব্যাখ্যা চাইতেন। সেই মফস্বলের কাদা-মাটির মাঠের সংবাদকর্মীর জীবন সাংবাদিকতার মানে দায়িত্বশীলতা, দেশের প্রতি মমত্ব শিখিয়েছে। সাংবাদিকতার দীর্ঘমেয়াদী কর্মশালায় বা মৌলভীবাজারে গিয়েও অালী অার রাজী স্যার, অগ্রজ সাংবাদিক রুহুল অামিন রুশদরা পড়িয়েছেন- সাংবাদিকতার মানে দল নিরপেক্ষ থাকা, কোন দল বা পক্ষের দালালী না করা। তাদের দেওয়া পাঠের বলেই বিলেতে এসে চ্যানেল অাই ইউরোপের বার্তা সম্পাদক হিসেবে বার্তাকক্ষ চালিয়েছি টানা বছর তিনেক। টিভিটির মালিকপক্ষ, বিলেতের ও ইউরোপের সকল বড় শহরের প্রিয় অগ্রজ প্রতিনিধিরা সাক্ষী অাছেন, অামার দায়িত্বকালীন সময়ে প্রচারিত কোন নিউজের জন্য চ্যানেলটি অফকমের কোন অভিযোগের জেরে ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা তো দুরে থাক, নোটিশেরও শিকার হয়নি।

পাঠকের জানবার জন্য বলে রাখি, অফকম হলো ব্রিটেনের সম্প্রচার সাংবাদিকতার নৈতিকতার রক্ষাকবচ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নিয়োজিত পষর্দ। যারা কোন ধরনের ধর্ম,বর্ণ বা রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক সংবাদের ব্যাপারে কঠোরভাবে নিজেদের অাইনী ক্ষমতাকে ব্যবহার করে।
লেখায় ব্যক্তিগত স্মৃতি আনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী প্রিয় পাঠক।
ছয়.
দেশটাকে হৃদয়ের অনেকখানি দিয়ে ভালবাসি বলেই চাই দেশটা ভালো থাকুক। দেশকে মনের গভীরের বহুখানি মায়া দিয়ে অনুভব করি বলে ই ক্ষমতার অন্ধ চোখ, পেশাজীবিদের নির্লজ্জ দলবাজি, সাংবাদিকতার নামে দলদাসত্ব অাহত করে, অাক্রান্ত করে।
তবু সে বেদনার কথা লেখাও দেশে এখন রীতিমত অপরাধ। জন্ম মাটিতে নির্বিগ্নে ফিরতে না দেবার প্রত্যক্ষ, পরোক্ষভাবে প্রতিনিয়ত হুমকি অাসে। হুমকিগুলোকে অভ্যাসমত ডাষ্টবিনে ফেলতে ফেলতে বেদনাহত হই, কিন্তু ক্লান্তি লাগে না। দেশটাকে অাবেগের অনেকখানি দিয়ে ভালবাসি তো, তাই। বিবেকটা এখনো সুবিধার দামের কাছে বন্ধক বা বিক্রি করে দিতে পারিনি।
অাজকের বাংলাদেশে কোন ঘটনা ঘটলে অতীতের সরকার বা সরকারগুলোর অামলের সাথে এক ধরনের তুলনামূলক অালোচনা করেন অামাদের সুশীলেরা। ওরাও করেছিল, এরাও করছে এমন এক বিকৃত বিকারে তারা বৈধতা দেবার চেষ্টা করেন অপরাধগুলোকে। কিন্তু, বিএনপি-জামায়াত অামলে ক্ষমতাশীনরা বাংলা ভাইদের দিয়ে এ রাষ্ট্রকে অারেক অাফগানিস্তান বানাতে প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছিল বলেই তো জনগণ তাদের বর্জন করেছিল।

সাত.
মাত্র দু’মাস হয়নি পাবনায় নারী সাংবাদিক সুবর্না নদী খুন হলেন। অাজ দেশের নারী সাংবাদিকরা, সম্পাদকরা মাসুদা ভাট্টি বনাম ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন ইস্যুতে যতটা সরব, তখন ততটাই নীরব ছিলেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সন্মেলনে তাঁর এ প্রসংগে দেয়া বক্তব্যের ৬ ঘন্টার মধ্যে একই বিষয় ও ঘটনায় অন্য মামলায় উচ্চ অাদালতের জামিনে থাকার পর ব্যারিস্টার মইনুলকে গ্রেপ্তার করা হল। ব্যারিস্টার মইনুলের টকশো’তে দেয়া অাক্রমনমূলক বক্তব্যের অবশ্যই নিন্দা জানাই। তার বিরুদ্ধে উঠা পাকিস্তানের দালালীর অভিযোগ, ১/১১র ভূমিকা অবশ্যই নিন্দনীয়, বিচারযোগ্য অপরাধ। যদিও তিনি বঙ্গবন্ধুর অামলে এমপি ছিলেন,তখন তার পাকিস্তান প্রেমের বিষয়টি উঠেনি।
অাজ খালেদা জিয়া যে মামলায় জেলে ১/১১ তে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। সেটি ভিন্ন অালোচনা। তেমনি কাউকে লিঙ্গবৈষম্যে জড়িয়ে অালোচনা নেহায়েৎ ইতরামি। যেমনি পাকিস্তানী বিয়ে, নাম যুক্ত রাখাও ভিন্ন অালোচনার বিষয় এবং এক অর্থে ব্যক্তিগতও। সে অালোচনা অামার লেখার গন্তব্য নয় সচেতনভাবেই।
মইনুল হোসেন গর্হিত বক্তব্য দিয়েছেন এটা যেমন সত্য, তেমনি তিনি অাক্রান্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ফোন করে, লিখিতভাবে লেটারহেড প্যাডে সাক্ষর দিয়ে অানুষ্ঠানিকভাবে দুটোই সত্য। এরপরের সত্য হল, এ ঘটনায় তারপরও সম্পাদকরা বিবৃতি দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী অবধি অান্দোলন করতে বলেছেন। অতপর, তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
অামার খুব জানতে ইচ্ছে করে, সাগর-রুনী, সুবর্নার খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে জ্যেষ্ঠ্য সাংবাদিকরা কি এখনকার এক শতাংশও কথা বলেছেন ঐক্যবদ্ধভাবে? মেহেরুন রুনী অার সুবর্না নদীও তো পেশাদার নারী সাংবাদিক ছিলেন। পুলিশ যখন রাজপথে নায্য দাবীতে নামা নারীদের লাঞ্চনা করে, শরীরের কাপড় ছিড়ে ফেলে, তখন কোথায় থাকেন অামাদের বিভক্ত সমাজের সমাজপতি, সুবিধাভোগী সুশীল সমাজ ?
নারায়ণগঞ্জের নন্দিত মেয়র অাইভী রহমানকে সাংসদ শামীম ওসমান নগ্নভাবে অশ্রাব্য ভাষায় অাক্রমন করলেন। শামীম ওসমান নারায়নগঞ্জের এএসপি বশিরকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেন। গালির কথাগুলো কোট-অানকোট প্রথম অালোতে ২৭ শে জুন ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়। কিন্তু, শামীম ওসমানদের বিরুদ্ধে মামলা তো দূরের কথা, ক্ষমা চাইবার অাওয়াজও ওঠে না। ততখানি কন্ঠ যে অার বাকী নেই চেতনার পাইকারদের। অাকন্ঠ যে ঢেকুর তুলছে সুবিধাবাদ।

দেশে এখন তারেক রহমানের সেই হাওয়া ভবনের বিল্ডিংটাই ভেঙে ফেলেছেন ভবনটির মালিক। তেমনি ক্ষমতার কেন্দ্র পাল্টেছে। কিন্তু, রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন কি হয়েছে? অার রাজনীতি যেহেতু সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে, সে কারণে রাজনৈতিক এক চোখা নীতি, রাষ্ট্রীয়ভাবে চাটুকার লালনের সংস্কৃতি সমাজকে ভীষনভাবে নেতিবাচক রুপে প্রভাবিত করছে।
অাট.
রাজনীতি যখন অসুস্থ সংস্কৃতিকে লালন ও মদদ দেয়, সমাজ তখন বিভক্ত অার ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। ক্ষমতা যুগে যুগে তার টিকে থাকবার প্রয়োজনে একদল বুদ্ধি-বেশ্যাকে বুদ্ধিজীবির স্বীকৃতি দেয়। সেই সময়ে সংস্কৃতি অার সামাজিকায়নের ধারায়ও ভর করে অন্ধকার অার বিকৃতির ধারা। দেশের রাজনীতি যতক্ষন পর্যন্ত সুস্থ ধারায় না ফিরবে ততক্ষন অবধি সমাজের কোন ক্ষেত্রে ভ্রান্তিকতা, বিকারগ্রস্থতার অবসান হবে না।
তেমনি এখন অার দহন ছবিটির লেখার শুরুতে অালোচ্য গানটি সেন্সর বোর্ডে বাদ বা ঐ অসভ্য অার দেশের চেতনা বিরোধী শব্দগুলি বাদ দিলেও কোন লাভ হবে না। ‘ইয়াবা খেয়ে দেয়ালে হিসু’ দেওয়ার বীভৎস গান সেন্সর বোর্ড আটকেও দেয় তাতে লাভ কী! ক্ষতি যা হওয়ার হয়েই গেছে। গানটি লাখ লাখ ভিউয়ার্সের ভিউ বাগিয়ে এর উৎপাদক তার কাংখিত সুবিধা ইতিমধ্যে বাগিয়ে নিয়েছে। যেমনি সুবিধার দাসত্বে নাকে খত দিয়ে অানুগত্যের খেলা দেখান, অামাদের সমাজের সব পেশার সব অামলের সরকারদলীয় পোষা বুদ্ধিজীবী অার সুবিধাজীবী প্রাণীরা। অাওয়ামী লীগ বা বিএনপি কোন অামলেই যে এ দৃশ্য পাল্টায়নি, বরং সময়ে সময়ে তা ক্রম বিকৃতির ধারায় এখন এতদুর পৌঁছেছে, তার স্বাক্ষী ইতিহাস।

নয়.
ঐ গানে (বাবা) শব্দটি পজেটিভলি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এই বাবা শব্দের মানে হচ্ছে ইয়াবা । অার সে ইয়াবা বাংলাদেশের প্রজন্মঘাতি এক বার্মিজ মারণাস্ত্র। দেশে যখন বর্তমান সরকার এই মরণ নেশার বিরুদ্ধে অানুষ্ঠানিক অভিযান পরিচালনা করছে, দেশের সংস্কৃতির সবচেয়ে দর্শকবহুল ধারা চলচ্চিত্রে তখন ইয়াবার নেশাকে প্রলুব্ধ করে গান প্রচার হচ্ছে। এটাই বোধহয় সমাজ কি ভাবে চলছে তার একটি উদাহরণ।
দশ.
এই অশ্লীল গানের গীতিকার, সুরকার, পরিচালক যারা ছিলেন তারা কোন প্রজাতির, একবার জানতে ইচ্ছে করছিল। পরে ভাবলাম, ধুর বাদ দিই। এরচেয়ে অামাদের রাজনীতির, সমাজের জাতীয় চরিত্রগুলোকে দেখলেই তো হয়।
ছবিটির যে নায়কের কন্ঠে চলচিত্রটিতে গান হিসেবে অর্ন্তভুক্ত হয়েছে সেই নায়ক সিয়াম বিলেত থেকে পাশ করা একজন ব্যারিস্টার বলে জানতাম। যদিও বিলেতে বা বাংলাদেশে ব্যারিস্টার যারা অাছেন বিলেত থেকে পাশ করা, তার নব্বই ভাগই নন-প্রেক্টিসিং বা পাবলিক এক্সেসের ক্ষমতাহীন। যাহোক সে সিয়ামকে কথাবার্তায়, ইন্টারভিউতে বেশ সমাজ ও রাষ্ট্র সচেতন মানুষই মনে হত। পরক্ষণে ভাবি, অামাদের দেশটার শুধু ক্ষমতায় যাবার বা নামাবার জন্য লড়া বড় দলের নেতারাও তো বক্তব্যে কত সুন্দর সুন্দর কথা বলেন।
অন্ধ সময়ে চশমার ফেরিওয়ালা মানুষগুলোই সম্ভবত অপরাধী। সুবিধার বোতলে নিজেদের ফিট করতে না পারাটাই তাদের অপরাধ হয়ে যায়।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








