অসংখ্য গোপন নথি প্রকাশ করে আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস নতুন কিছু নথি প্রকাশ করে দাবি করেছে, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের মধ্যকার যোগাযোগে নজরদারি করেছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)।
এছাড়াও ইসরায়েল, ইতালী এবং ফরাসি নেতাদের উপর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও রয়েছে হুইসেলব্লোয়ার সাইটটির সাম্প্রতিক প্রকাশিত গোপনীয় বার্তাগুলোতে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ক্লাসিফায়েড নথিগুলোতে অভিযোগ করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে স্পর্শকাতর বাণিজ্যিক বিষয়ে অর্থায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতা, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং জাপানের আলাপচারিতার মধ্যেও নজরদারি করেছিলো এনএসএ।
২০০৮ সালে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনা এবং এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বান কি মুন ও মার্কেলের মধ্যকার বৈঠকটিতে নজরদারি করা হয়েছিলো।
বিশ্ব নেতা এবং জাতিসংঘের উপর যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ নিয়ে উইকিলিকসের নথি প্রকাশের ঘটনা এবারেই প্রথম নয়। এর আগে প্রকাশিত নথিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগীদের মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছিলো।
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জ বলেন, নিজেদের তেল সম্পদের স্বার্থ রক্ষার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের আলোচনা শুনেছিলো যুক্তরাষ্ট্র।
সাম্প্রতিক এই নথি প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে অ্যাসেঞ্জ বলেন, আজ আমরা দেখালাম নিজেদের বৃহত্তম তেল কোম্পানিগুলোকে রক্ষার জন্য একটি দেশ জলবায়ু পরিবর্তন থেকে পৃথিবীকে রক্ষা সংক্রান্ত জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের ব্যক্তিগত বৈঠকগুলোতে গোপনে নজরদারি করেছিলো।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ২০১০ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লোসকুনির বৈঠকেও নজরদারি করেছিলো এনএসএ।
সাবেক ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বার্লোসকুনির বৈঠকেও নজরদারি করা হয় বলে জানায় উইকিলিকস।
এছাড়াও জাপানিজ এবং ইউ-এর বাণিজ্য মন্ত্রীদের স্পর্শকাতর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ইস্যু ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বিষয়ক আলোচনাতেও গুপ্তচরবৃত্তি করেছিলো এনএসএ।







