আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষক কারা হচ্ছে তা জানা যাবে বুধবার। প্রকাশ্য নিলামে পাঁচটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম হাঁকানো প্রতিষ্ঠানটি হবে টাইগারদের গর্বিত পৃষ্ঠপোষক। মাশরাফি-মুশফিকদের ভিত্তিমূল্য দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটিতে। ধারণা করা হচ্ছে, নিলামে শত কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে টাকার অঙ্ক। তবে সুখবর নেই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের জন্য। কেননা মেয়েদের জন্য থাকছে না আলাদা কোন পৃষ্ঠপোষক। মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য বাড়তি কিছু আদায়ও করতে পারেবে না বিসিবির উইমেন্স উইং।
বান্ডেল প্যাকেজের মাধ্যমেই এবারও বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বত্ত্ব বিক্রি করতে যাচ্ছে বিসিবি। এই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ জাতীয় দল (পুরুষ ও নারী), বাংলাদেশ ‘এ’ দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
কিন্তু নারী ক্রিকেট নিয়ে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদা চুক্তি না হলে দারিদ্রের মধ্যেই থেকে যাবেন নারী ক্রিকেটাররা। তারা যে বেতন ও ম্যাচ ফি পান তা ছেলেদের তুলনায় ১০ ভাগেরও কম। অথচ নামমাত্র টাকায় জার্সি, ক্যাপে ঠিকই সগৌরবে লোগো ব্যবহার করে থাকে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান।
উইমেন্স উইং চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল চৌধুরী শনিবার জানিয়েছিলেন, নারী ক্রিকেটের জন্য আলাদা পৃষ্ঠপোষক আনার চেষ্টা হচ্ছে। আলাদা পৃষ্ঠপোষক পাওয়া না গেলেও চুক্তিপত্র আলাদা করে করার ব্যাপারে প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, গত মেয়াদের মতো এবারও বান্ডেল প্যাকেজ অনুযায়ী পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
আউয়াল চৌধুরী বলেন, বান্ডেল প্যাকেজ হওয়ায় গত দুই বছরে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছ থেকে বাড়তি কিছু আদায় করতে পারেনি উইমেন্স উইং। ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না বলে জানালেও আসল সময়ে তিনি নির্বিকার। কয়েকবার ফোন করা হলেও ওপ্রান্তে সাড়া নেই।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী এ ব্যাপারে বললেন, ‘আসলে উইমেন্স ক্রিকেটের ক্ষেত্রে একেক দেশের বোর্ডের একেক ধরণের স্ট্র্যাটেজি থাকে। আমরা যেটা করি টিম স্পন্সরশীপ যখন বিক্রি করতে যাই তখন বান্ডেলে যাই। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ টিম মেনস ও উইমেন্স, ‘এ’ দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল বান্ডেলে থাকে। উইমেন্স টিমের জন্য আলাদা স্পন্সরশীপ নেই তা না। নতুন স্পন্সরশীপের জন্য নতুন চুক্তিতে এটা একই অবস্থাতে আছে।’
নারী ক্রিকেটারদের দারিদ্র্যতার মধ্যে রেখে দেওয়ার ব্যাপার তো আছেই। সামনে আন্তর্জাতিক ম্যাচও নেই তাদের। সেটির ব্যবস্থাও করতে পারছে না বিসিবি। ফিউচার ট্যুর প্ল্যানে (এফটিপি) নারী ক্রিকেট কেন থাকে না- এমন প্রশ্নে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বললেন, ‘এফটিপিতে ম্যাচ পাচ্ছি না তার একমাত্র কারণ পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে অবস্থান। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে উন্নতি করা যায়। অনেক বোর্ড অ্যাকটিভ রোল প্লে করে না। যারা করে আমরা তেমন করার চেষ্টা করছি। কয়েকবছর ধরে বিদেশি কোচ কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি উন্নতি করার। মেয়েদের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় স্পন্সরশীপ বাড়ানো যায় কিনা আমরা সে চেষ্টাও করছি।’








