পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাড্ডার সাতারকুল এলাকার বাসিন্দা জাহিদ নিজ সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সে মোতাবেক জাহিদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে আউসারকে শ্বাসরোধ ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মজিদ।
কিশোর আউসার হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বাবা জাহিদ ওরফে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গত শুক্রবার আউসার হত্যার মূল আসামি আব্দুল মজিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রোববার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ।
তিনি বলেন, বাড্ডার সাতারকুল এলাকার বাসিন্দা জাহিদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা হেলাল উদ্দিনের পারিবারিক শত্রুতা ছিল। এছাড়া, অটোরিক্সা জমা বাবদ ৮০০ টাকা জমা না দেওয়ার কারণে আব্দুল জলিলের সঙ্গেও শত্রুতা হয় জাহিদের। সামান্য এ শত্রুতার কারণে নিজের কিশোর সন্তান আউসারকে (১২) খুন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করতে থাকে জাহিদ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৭ এপ্রিল ভাড়াটে খুনি দিয়ে কিশোর ছেলে আউসারকে শ্বাসরোধ ও ছুরিকাঘাতে হত্যার পর ধানক্ষেতে ফেলে আসেন। পর দিন লাশ উদ্ধার করা হলে তিনি বাদী হয়ে মামলাও করেন। সেখানে তিনি এর দায় চাপান তারা তার শত্রুদের ওপর।

মোস্তাক আহমেদ বলেন, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পারিপার্শিক সাক্ষ্য বিবেচনায় শুক্রবার খুনী মজিদকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। জাহিদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে আউাসারকে খুন করে বলে স্বীকার করে মজিদ।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মজিদ ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী জাহিদকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাহিদও হত্যাকাণ্ডের দায় প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার এসআই শামসুল হক বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় জাহিদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিল রাতে টিউবওয়েলের পানি আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর আউসার (১২)। পরদিন সন্ধ্যায় বাড্ডার পূর্ব পরদীয়া এলাকা থেকে আউসারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় আউসারের বাবা জাহিদ প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন, আবদুল জলিলসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করে।







