বাক স্বাধীনতা নিয়ে কথা বললেই বাংলাদেশে একের পর এক আঘাত হানা হচ্ছে। সম্প্রতি নিহত হয়েছেন ব্লগার নিলয় নীল। তিনি নিয়মিত ধর্মীয় গোঁড়ামি বিরুদ্ধে ব্লগে লেখালেখি করতেন। হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে মৌলবাদী চরমপন্থী গোষ্ঠী।
এ বছর নিলয়সহ চারজন ব্লগারকে হত্যা করা হলো। গত ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগে প্রকাশ্য রাস্তায় মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়ের খুনের পর বাংলাদশে মৌলবাদী নাশকতার শিকার হয়েছেন ওয়াশকিুর রহমান বাবু ও অনন্ত বিজয় দাস।
এঁরা প্রত্যেকেই ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। জঙ্গি গ্রুপ আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা আনসার আল ইসলাম খুনের দায় স্বীকার করে। তারা জানায় তাদের পরবর্তী টার্গেটের কথা এবং আল্লাহ অনুমতিতে এই দায়িত্ব তারা পালন করছে। পুলিশ নিলয়সহ অন্যান্য খুন হওয়া ব্লগারদের রক্ষা করতে সক্ষম হয়নি।
সরকার যথারীতি হত্যাকাণ্ডের চরম নিন্দা জানায়, আর দ্রুত হত্যাকারীদের ধরার নির্দেশ দেয় পুলিশকে। বাংলাদেশ পুলিশের আইজি শহিদুল হক জানায়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনাও একটি অপরাধ। তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চলতি সপ্তাহে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার আরজিতে বলা হয়, সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে প্রবীর শিকদার বলেন- তার মৃত্যু হলে স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের ও মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার দায়ী থাকবেন।
গত সপ্তাহে ২০১১ সালে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক রুহুল আমীন খন্দকারকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।
এর পর যারা বাক স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলবে তাদেরও তো মৃত্যুর মুখে পড়তে হবে। তাই এসব থেকে অবশ্যই বের হয়ে আসতে হবে বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক মান বিচার বিবেচনা করতে হবে। সাংবিধানিক স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে হবে।
(লেখক- হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া’র পরিচালক। অনুবাদ করেছেন আরেফিন তানজীব)







