সাফটা চুক্তির আওতায় গেল শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) কলকাতার ছবি ‘জিও পাগলা’ মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশে। দেশের ৪৩ টি সিনেমা হলে ছবিটি একযোগে মুক্তি পেয়েছে বলে আগেই জানিয়েছে ছবির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান ব্রাদার্স।
এই প্রতিষ্ঠানটি যতটা উৎসাহ নিয়ে ‘জিও পাগলা’ বাংলাদেশে মুক্তি দিয়েছিল, মুক্তির পর ছবিটি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ‘জিও পাগলা’র ব্যবসার খবর জানতে খান ব্রাদার্সের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এই প্রতিবেদক। তবে রাজধানীর একাধিক হল মালিক ও ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘জিও পাগলা’র চরম ব্যবসায়িক বিপর্যয় হয়েছে।
নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা নিউ মার্কেট-নীলক্ষেতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বলাকা সিনেমা হলে চলছে ‘জিও পাগলা’। হলটির সার্বিক দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মোহাম্মদ আকতার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, জিও পাগলা মোটেও ভালো চলছে না। শুক্রবার থেকে আজ (রোববার) পর্যন্ত একটি শো-ও হাউজফুল হয়নি।
সঙ্গত কারণে কত টাকার বিক্রিবাট্টা হয়েছে এটি বলতে চাই না। তবে বলাকার দর্শকদের কাছে ‘জিও পাগলা’ ফ্লপ ছবি। তিনি বলেন, ‘জিও পাগলা’ পুরোপুরি কলকাতা কালচারের ছবি। কমেডি গল্পের ছবি। কিন্তু প্রচারণার অভাবে আমাদের দর্শকদের কাছে ঠিকভাবে ছবিটি পৌঁছায়নি।
মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হলে চলছে ‘জিও পাগলা’। হলটি মালিক ও সিনেমা হলমালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার আহমেদ নওশাদ বলেন, আমার হলে ভালো ব্যবসা করলে ছবির সেল সব শো মিলিয়ে আসে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। সেখানে শুক্রবারে ‘জিও পাগলা’ সবমিলিয়ে শো দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা সেল হয়েছে। এবার বুঝুন কত খারাপ অবস্থা। শনিবারেও প্রায় একই অবস্থা। আজ (রোববার) আরো খারাপ।
বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সেও চলছে ‘জিও পাগলা’। সেখানকার প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বললেন, আহামরিভাবে চলছে না ছবিটি। হাউজফুলের দেখা পাইনি। প্রতিদিন সময় ১১ টা ও ৪ টা দুটি করে শো প্রদর্শিত হচ্ছে। তিনি বলেন, গত দুদিনে আসন সংখ্যার ৪০ শতাংশ দর্শক জিও পাগলা দেখছে। আজ (রোববার) দর্শক কম। এটা আশানুরূপ উপস্থিতি নয়।
তিনি বলেন, ররিবার বিশ্ব ইজেতামার জন্য দর্শক কম আসছে। সবমিলিয়ে এই মাসে ছবির ব্যবসা ভালো না। আগামী মাসে কয়েকটি ভালো ছবি আসছে। আমাদের দেশের ওসব ছবি ভালো চলবে মনে করছি।
জোনাকি সিনেমা হলের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার পাঁচটি শো থেকে ২১ হাজার টাকা, শনিবার চার শো থেকে ৮ হাজার টাকা। আজ (রবিববার) একেবারে মুখ থুপড়ে পড়েছে । ব্যবসা খুবই খারাপ। আগামি মাসে কয়েকটা ভালো ছবি আসছে। ওখান থেকে যদি কিছু লাভ করা যায় সেই অপেক্ষায় আছি।
নারায়ণগঞ্জের নিউমেট্রো সিনেমা হলের ম্যানেজার সাইদ হোসেন বলেন, ‘জিও পাগলা’ আগেই ইন্টারনেটে দর্শকরা দেখেছে। ইন্টারনেটে দেখা ছবি আবার সিনেমা হলে এসে দেখবে এমন দর্শক আমাদের দেশে এখনো তৈরি হয়নি।
তাহলে কেন ছবিটি হলে প্রদর্শন করলেন? গত শুক্রবার আমাদের দেশের কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। হল বাঁচিয়ে রাখতে হলে কলকাতার এই ছবি চালানো ছাড়া কোন উপায় ছিল না, সেজন্যই চালাচ্ছি। প্রথমদিন ৪০-৫০ জন দর্শক, পরে ১০-১৫ জন দর্শকের উপস্থিতিতে ছবি চালানো হচ্ছে। কত টাকার ব্যবসা করেছে শুনে আর লজ্জা দেবেন না-বললেন সাইদ।
পুরান ঢাকার জিঞ্জিরা সিনেমা হল থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, শুক্রবারে মুক্তির প্রথম দিনে ৪০ হাজার টাকা সেল হয়েছে। শনিবার তিন শো থেকে সেল হয়েছে ২৩ হাজার টাকা। আজ (রোববার) দর্শক নেই বললেই চলে! সপ্তাহের বাকি দিনগুলো ছবি চলবে কিনা সন্দেহ!
এদিকে, বাংলাদেশ সিনেমা হল বুকিং এজেন্ট সমিতির প্রেসিডেন্ট সারোয়ার ভুঁইয়া দিপু চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘জিও পাগলা’ ছবিটা খুব ভালো, তারকাবহুল। আমাদের দেশে এমন ছবি নির্মিত হয়না। কিন্তু দর্শক এই ছবিটাও দেখছে না। ইন্টারনেটের কল্যাণে দর্শকরা এখন আর হলে আসতে চায় না। ক’দিন পরেই দর্শক ইন্টারনেট থেকে দেখে নেবে মনে করে আর হলে আসে না। তবে মন্দের ভালো চলছে ‘জিও পাগলা’।
‘জিও পাগলা’ ছবিটি নির্মাণ করেছেন কলকাতার সুপারহিট নির্মাতা রবি কিনাগী। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন যিশু সেনগুপ্ত, শ্রাবন্তী, সোহম চক্রবর্তী, ঋত্বিকা সেন, হিরণ চ্যাটার্জি, বনি সেনগুপ্ত, কৌশানি মুখার্জি, পায়েল সরকার প্রমুখ। গেল বছরের ২০ অক্টোবর রোমান্টিক-কমেডি ধাঁচের এই ছবিটি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল।








