সেন্ট ভিনসেন্টের ট্রিকি উইকেটে ১২.১ ওভারে ১১৫ রান তাড়ার সমীকরণ কঠিনই ছিল বাংলাদেশের জন্য। চেষ্টা করেও রানের নাগাল না পেয়ে জয় নিয়েই তৃপ্ত থাকতে চেয়েছিল শান্তবাহিনী। কিন্তু ১৯ ওভারেও যে সেটির নাগাল পাওয়া যাবে না তা ছিল চিন্তার বাইরে। অসাধারণ বোলিংয়ে বাংলাদেশকে বৃষ্টি আইনে ৮ রানে হারিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার সেমিফাইনালের টিকিট কাটল আফগানিস্তান।
রশিদ খান ও নাভিন উল হক চারটি করে উইকেট শিকার করে ১৭.৫ ওভারে বাংলাদেশকে অলআউট করে দেয় ১০৫ রানে। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১৯ ওভারে ১১৪। শেষের দিকে বল প্রতি রানের হিসেব ছিল বাংলাদেশের সামনে।
তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান পারেননি লিটন দাসকে আরেকটু সঙ্গ দিতে। টাইগার ওপেনার ৪৯ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন। চেষ্টা করছিলেন একা হাতে বাংলাদেশকে জেতাতে।
বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটা জিতে দেশে ফেরার হাতছানি ছিল বাংলাদেশের সামনে। রান রেটের চ্যালেঞ্জে জিতে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে হারের মুখে পড়ে শান্তবাহিনী।
তাওহীদ হৃদয় ৯ বলে ১৪ রান করে ফেরার পরই রান রেট বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ থেকে সরে আসে বাংলাদেশ। একপ্রান্ত আগলে লিটন দাস চেষ্টা করে গেলেও অন্যপ্রান্ত থেকে পাননি সঙ্গ।
আবার খেলা শুরু হলে দলীয় ফিফটির আগে রশিদ খানের বলে বোল্ড হন সৌম্য সরকার। ১০ বলে করেন ১০ রান। পরে হৃদয়ের আউটের পর জ্বলে উঠতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। ৯ বলে ৬ রান করে লেগস্পিনার রশিদের বলে আউট হন।
পরের বলে রিশাদ হোসেনকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান আফগান অধিনায়ক।
এর আগে ওপেনিং জুটি ১০ ওভারের বেশি ক্রিজে কাটালেও ভালো সংগ্রহ পায়নি আফগানিস্তান। সেন্ট ভিনসেন্টের উইকেট ব্যাটারদের পক্ষে ছিল না মোটেও। ৫ উইকেট হাতে রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ১১৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি আফগানিস্তান।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকে মন্থর ছিল আফগানিস্তান। পাওয়ার প্লে-তে ২৭ রানের বেশি তুলতে পারেননি রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। ১০.৪ ওভারে রিশাদ হোসেন ইব্রাহিমকে ফিরিয়ে ভাঙেন ওপেনিং জুটি। আফগান ওপেনার ২৯ বল খেলে ১৮ রান করেন। অপর ওপেনার গুরবাজ ৫৫ বলে ৪৩ রান করে ফেরেন রিশাদের শেষ ওভারে।
আসরে ৭ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিকারি রিশাদ। সেন্ট ভিনসেন্টে আফগানিস্তান ম্যাচে ৪ ওভারে ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন।








