আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর মাত্র ঘণ্টাখানেক বাকী, ঐতিহাসিক মুহুর্তের কাউন্টডাউন শুরু। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে মহাকাশ যাত্রা শুরু করবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।
এর মাধ্যমে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা ৫৭তম দেশ হিসেবে পরিচিতি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পতাকা, জাতির জনকের নাম নিয়ে মহাকাশের নিজস্ব কক্ষপথের দিকে রওনা দেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এখন কেবল আবহাওয়ার ওপর ভরসা এবং চূড়ান্ত প্রতীক্ষার পালা।
ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু-১ কে নিয়ে মহাকাশের পথে ছুটে যাবে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক ৫ সংস্করণ। স্পেসএক্সের জন্যও এই উৎক্ষেপণ কিছুটা নতুন। কারণ স্পেসএক্সের জন্য এই সংস্করণের রকেট দিয়ে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হবে এটাই প্রথম।
ইতোমধ্যে স্যাটেলাইটটি বহনকারী ফ্যালকন নাইন রকেটের ‘স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট’ সম্পন্ন করেছে স্পেসএক্স। গত ৫ মে নিজস্ব টুইটার পেজে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
তিন হাজার ৫০০ কেজি ওজনের জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফ্যালকন-৯ কক্ষপথের দিকে ছুটবে কেনেডি স্পেস সেন্টারের ঐতিহাসিক লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯-এ থেকে, এই লঞ্চ প্যাড থেকে ১৯৬৯ সালে চন্দ্রাভিযানে রওনা হয়েছিল অ্যাপোলো-১১।

মূলত নাসার অ্যাপোলো কর্মসূচির জন্যই ৩৯-এ লঞ্চ প্যাডটি তৈরি হয়। অর্থাৎ শুধু স্যাটেলাইটবাহী রকেট নয়, স্পেসশাটলের উৎক্ষেপণে এক ভরসার নাম এই লঞ্চ কমপ্লেক্স।
২০১৪ সালে নাসার কাছ থেকে ৩৯-এ লঞ্চ কমপ্লেক্সটি ২০ বছরের জন্য লিজ নেয় স্পেসএক্স। এরপর এই ঐতিহাসিক স্থাপনার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে বাণিজ্যিক এবং অনুসন্ধানী কাজে এই লঞ্চিং কমপ্লেক্সটির ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যানুযায়ী, লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণের পরপরই স্টেজ-১ চালু হয়ে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করে প্রচণ্ড শক্তিতে মহাকাশের দিকে যাবে ফ্যালকন নাইনের ব্লক ৫ রকেট। উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট সময় পর রকেটের স্টেজ-১ অংশটি খুলে নিচের দিকে নামতে থাকবে। ফ্যালকনের এই অংশটি একাধিকবার ব্যবহারের উপযোগী।
এরপর চালু হবে স্টেজ-২। ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। পৃথিবীতে ফিরে এলেও স্টেজ-২ স্যাটেলাইটকে মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছে দিবে।
মহাকাশযাত্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে স্যাটেলাইটটি স্থাপিত হবে মহাকাশের ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের অরবিটাল স্লটে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এই কক্ষপথ বা অরবিটাল স্লট কেনা হয়।
কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্যাটেলাইটের যাত্রার ধাপটিকে বলে লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি)। এই ধাপে লাগবে ৮-১০ দিনের মত। এরপর কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার ধাপটিকে বলা হয় স্যাটেলাইট ইন অরবিট। কক্ষপথে স্থাপনের এই প্রক্রিয়াটিতে সময় লাগবে প্রায় ৩ সপ্তাহ।
স্যাটেলাইট রকেট থেকে উন্মুক্ত হওয়ার পর এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে। স্যাটেলাইট সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
এজন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড।








