বাছাই পর্ব শেষ না হতেই শুরু হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বিশ্বাবসীর উন্মাদনা। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় রাশিয়া বিশ্বকাপে কোন ৩২টি দল অংশ নেবে তা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। বাছাই পর্বের বাধা পেরিয়ে পছন্দের দলগুলো মূল পর্বে যাওয়ায় উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা।
বাংলাদেশ কখনও বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ না নিলেও বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলার সর্বোচ্চ আসর নিয়ে এখানে মাতামাতি এবং উন্মাদনার কোন কমতি নেই। বরং যেকোন ফুটবল খেলুড়ে দেশের চেয়ে বেশি ছাড়া কম হবে না।
ফুটবল বিশ্বকাপের আগমনী ঘণ্টা বাজলেই সারাদেশ ছেয়ে যায় বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকায়। দেয়ালে দেয়ালে শোভা পায় প্রিয় দল ও খেলোয়াড়ের নাম। প্রিয় দলের খেলা থাকলে শহরের গলিতে গলিতে তা বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা হয়। পছন্দের দলের সফলতায় মিষ্টি বিতরণের খবরও মেলে হামেশাই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে এ যুগে সেই উন্মাদনা পেয়েছে নতুন মাত্রা। মাঠে যখন খেলোয়াড়েরা খেলে, সমর্থকেরা খেলে সামাজিক মাধ্যমে। নিজের প্রোফাইলে, কভার ফটোতে শোভা পায় প্রিয় দল বা খেলোয়াড়ের ছবি। খেলা চলাকালে তার আপডেট দিয়ে চলে স্ট্যাটাস। পছন্দের দলের জয়ে উচ্ছ্বাস আর স্তুতিতে ভরে যায় সমর্থকদের ওয়াল, পরাজয়ে হতাশাও প্রকাশ করেন তারা। চলে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি খোঁচাখুচি ও খুনসুটিও।
বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় লাতিন আমেরিকান দলগুলো। আরও নির্দিষ্ট করে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের সমর্থকই বেশিরভাগ।জার্মানি, স্পেন বা ইতালির সমর্থকও রয়েছেন তবে তা আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের সমর্থকদের তুলনায় অনেক কম।
বাংলাদেশের সমর্থকগোষ্ঠী যেন পুরো দুই শিবিরে বিভক্ত; আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল শিবিরে। এই দুই দলের সমর্থকদের নিজের দলের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ এবং প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের খোঁচাখুঁচি অনেকটা বাড়াবাড়ি পর্যায়েরই। একথা বললেও অত্যুক্তি হবে না যে, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ফুটবল বিশ্বকাপ মানে এখনও অনেকে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলকেই বোঝে।
কিন্তু এ মাতামাতি থেকে কখনও কখনও ছড়ায় অযৌক্তিক ঘৃণা। এ নিয়ে মন কষাকষি বা হাতাহাতির খবরও আসে!
ইতোমধ্যে বুধবার সকালে বাছাই পর্বে আর্জেন্টিনার খেলার পর ওইদিন বিকেলের খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে উভয় গ্রুপের অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কারণ খেলা হচ্ছে একটা নির্মল আনন্দের বিষয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি বা হাতাহাতির ঘটনা হতাশার। তাই সমর্থকদের উচিত খেলাটাকে পুরোপুরি উপভোগ করা। কোনভাবেই এ নিয়ে পরষ্পরের মধ্যে রেশারেশি বা হাতাহাতি কাম্য নয়।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








