ওপেনে নেমে তাসের ঘর দেখলেন। সেই ঘর নিজে গোছালেন। খেললেন ৪২টি বল। করলেন ৬৭টি রান। দলকে এনে দিলেন ৫ বল হাতে রেখে দুই উইকেটের জয়। সঙ্গে ফাইনাল!
চেন্নাই এদিন টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। হায়দরাবাদ সাত উইকেটে ১৩৯ রান সংগ্রহ করে। চেন্নাই জয় পায় ১৯.১ ওভারে। আইপিএলের ইতিহাসে এটি তাদের সপ্তম ফাইনাল। সাকিব দুই ওভারে ২০ রান দেয়ার পর আর বলে আসেননি। ব্যাট হাতে ১০ বলে ১২ রান করেন। সাকিবরা হারলেও বাদ পড়ছেন না। আরেক ম্যাচ খেলে ফাইনালে আসার সুযোগ পাবেন।
শেষ তিন ওভারে ৪৩ রান দরকার ছিল ধোনিদের। ১৮তম ওভারে দুই চার এক ছয়ে ১৫ তুলে ফেলেন প্লেসিস। পঞ্চম বলে রানআউট হন হরভজন। অবাক করার বিষয় হলো এই পর্যন্ত ১০৭টি বলের ভেতর প্লেসিস শুরুতে নেমে ৩৯টি বল খেলার সুযোগ পান। হরভজন ফিরে গেলে নতুন ব্যাটসম্যান শার্দুল ঠাকুর শেষ ওভারের আগে ৫ বলে ১৫ তুলে ফেলেন। তার এমন ব্যাটিংয়ের পর শেষ ওভারে দলটির দরকার পড়ে ৬। উইলিয়ামসন বলে আনেন ভুবনেশ্বর কুমারকে। প্লেসিস প্রথম বলে ছয় হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেন।
এর আগে হায়দরাবাদ ইনিংসের একদম প্রথম বলে শেখর ধাওয়ানকে (০) হারায়। শ্রীবৎস গোস্বামী (১২) চতুর্থ ওভারে সাজঘরে ফিরলে আরও চাপে পড়ে দলটি। এভাবে ৫০ রান তুলতে চলে যায় চার উইকেট। কেন উইলিয়ামসন, সাকিব আল হাসানও এদিন বেশি কিছু করতে পারেননি।
উইলিয়ামসন ১৫ বলে চারটি চারে ধোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। সাকিব ১০ বলে দুই চারে ১২ করেন। ব্রাভোর বলে তিনিও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।
শেষ দিকে ইউসুফ পাঠান মনিষ পাণ্ডে এবং ব্র্যাথওয়েটের সঙ্গে ১৯ রানের দুটি জুটি গড়েন। পাঠান ২৯ বলে ২৪ রান করেন।
হায়দরাবাদের সব থেকে বড় জুটিটি আসে ইনিংসের শেষ উইকেটে। ব্র্যাথওয়েট ভুবনেশ্বর কুমার ৫১ রান করে দলকে লড়াইয়ের স্কোর গড়ে দেন।
ব্র্যাথওয়েট ২৯ বলে ৪৩ রানের ছোট একটা ঝড় তোলেন। ১১ বলে সাত করেন ভুবনেশ্বর।
জবাব দিতে নেমে চেন্নাইও শুরুতে বিপদে পড়ে। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ওয়াটসনকে (০) ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। দ্বিতীয় জুটিতে রায়না-প্লেসিস ২৪ রান যোগ করেন। রায়না ২২ রানে বোল্ড হয়ে ফিরলে প্লেসিস একপ্রান্ত আগলে রাখেন। ধোনি মাঝখানে সিঙ্গেল নিয়ে নিয়ে ম্যাচ ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। রশিদ খানের চোখ জুড়ানো এক গুগলিতে বোল্ড হন মাহি। ফ্রন্টফুটে অনসাইডে পুশ করতে যান। বল অফস্টাম্পে পড়ে ভেতরে বাঁক নিয়ে স্টাম্প খেয়ে নেয়। ধোনি ফেরার পর ব্রাভো প্লেসিসের সঙ্গে ১৮ রানের জুটি গড়েন। ব্রাভোকেও ফেরান রশিদ খান।
গুগলিতে ধোনির আউট হওয়া দেখে ব্রাভো সতর্ক ছিলেন। কিন্তু বল ঠিকই এবার গুগলির অফস্পিন না হয়ে সহজাত লেগস্পিন হয়ে যায়। ব্রাভো কাটশট খেলতে গিয়ে ধাওয়ানের হাতে ধরা পড়েন।
১৪ ওভারে ৮০ রান তুলতে ৬ ছয় উইকেট চলে যায় চেন্নাইয়ের। ওপেনে নামা প্লেসিস তখন দীপক চাহারকে নিয়ে জয়ের ভিত গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চাহারকে (১০) ফিরতে হয় ১৫তম ওভারের শেষ বলে।
এরপর হরভজন সিংকে নিয়ে এগুতে থাকেন প্লেসিস। ১৬ ওভারে রশিদ খানের বলে রিভিউ নিয়ে জীবন পান। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বের করেই ছাড়েন।








