আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩’র দশ বিশিষ্ট নাগরিকের হত্যার হুমকিকে ৭১ এর বুদ্ধিজীবী হত্যারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাবেরি গায়েন।
৭১’র এ যেমন মেধাবী মানুষগুলোকে টার্গেট করে করে মারা হয়েছে। এখনও জাতির মেধাবী মানুষগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে।
মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে ৩ ব্লগার খুনের পর দশ বিশিষ্ট নাগরিককে হত্যার হুমকিকে মুক্ত চিন্তুা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পথে বড় বাধা হিসাবে দেখছেন তিনি।
চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, দেশে আর কোন জঙ্গি নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে যে কথা বলা হয়, তা হাস্যকর ছাড়া কিছুই না। আজ বলা হচ্ছে আনসারুল্লাহকে নিষিদ্ধ করা হবে। কিন্তু কাউকে যদি গ্রেফতার না করা হয়,তাদের নির্মূলে যদি যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হয় তা হলে শুধু আমরাই নই, সারা দেশের মানুষই নিরাপত্তা সংকটে পড়বে।
আর এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ি করে তিনি বলেন, অভিজিত-অনন্তের হত্যাকারীদের ধরা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ওয়াশিকুরের হত্যাকারীদের তো ধরা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি। এমনকি তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েও নতুন কোন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
এ ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ৮৪ জন ব্লগারের লিস্ট করে একে একে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। শুধু নিষিদ্ধ ও লোক দেখানো প্রেস-কনফারেন্স মধ্যেই সরকারের দ্বায়িত্ব সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই সকল জঙ্গি গোষ্ঠির প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, ওয়াশিকুরের হত্যাকারিদের কিন্তু সাধারণ মানুষই ধরে দিয়েছিলো।
অভিজিৎ হত্যার পরও সাধারণ মানুষের ভেতর সচেতনতা তৈরী হয়েছিলো। কিন্তু এটা ধরে রাখা যায়নি। এদের প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে।
পুলিশের ব্যর্থতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশ নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার সময় এসেছে। পুলিশের ভেতর একটা দায় ছারা ভাব চলে এসেছে। সম্প্রতি টিএসসিতে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের বক্তব্যকেও হাস্যকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পুলিশকে শুধু বিরোধীদল দমনের হাতিয়ার-এই নীতি থেকে সরকারের সরে আসা উচিত। কেননা এতে করে পুলিশের ভেতর একটা হামবড়া ভাব চলে এসেছে।
সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষকের উপর পুলিশের হামলা ও মিন্টো রোডে টিএসসির যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদকারী এক নারীর উপর হামলা এই প্রমাণই দেয়।
আর কোনো কিছু হলেই নায়েক-এসআই পর্যায়ের পুলিশকে শাস্তির মুখোমুখি করা হয়। কিন্তু উপরের পর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের কিছুই হয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।







