প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সব থেকে বড় ওরোভিল বাঁধের পানি প্রবাহের পথে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় এক লক্ষ আশি হাজারেরও বেশি মানুষকে তাদের বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। ৭৭০ ফুট উঁচু এই বাঁধটির জরুরি পানি প্রবাহের পথটিতে গর্ত দেখা দিলে এ নির্দেশ দেয়া হয়। প্রবল গতিতে বাঁধটির ভিতর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বাঁধটি অক্ষুণ্ন আছে।
দীর্ঘদিনের খরার পর প্রবল বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের কারণে লেকের পানি প্রবাহের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। জরুরি পানি নির্গমনের পথ যেটি বাঁধটিকে অতিরিক্ত পানি প্রবাহে সহায়তা করে, রবিবার থেকে তা ক্ষয় হতে শুরু করে এবং সেখানে বড় গর্ত দেখা দেয়। সেদিন রাতেই সে অঞ্চলটির আশপাশের প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়, যা এখনও বলবৎ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিউট কাউন্টির শেরিফ বলেছেন, ওরোভিলের নিচু এলাকাগুলো এবং নদী বরাবর এলাকাগুলো থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে সরে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার প্রায় ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে ক্যালিফোর্নিয়া পানি সম্পদ বিভাগের টুইটার একাউন্টে জানানো হয়, বাঁধটির পানি বের হওয়ার অতিরিক্ত পথটি পরবর্তী এক ঘন্টার মধ্যে ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু কয়েক ঘন্টা পরও বাঁধের ওই গর্তটি আর বড় না হওয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি কিছুটা হ্রাস পায়।
ক্যালিফোর্নিয়ার শেরিফ হোনেয়া বলেছেন, আমরা দুঃখিত হওয়ার আগে নিজেদেরকে নিরাপদ করবো। আশা করছি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া যাবে।
এরপর পানি সম্পদ বিভাগ জানায়, বাঁধটির গর্ত ভরাট করার জন্য হেলিকপ্টার থেকে নিচে পাথর ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি বাঁধ কর্তৃপক্ষ লেকের পানির উচ্চতা কমাতে পানি ছাড়াতে শুরু করেছে।
এলাকা থেকে সরে যাওয়া লোকজনের জন্য ওরোভিলের ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে চিকোতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কিন্তু এলাকা ছেড়ে যাওয়া এসব লোকজন প্রায় সবাই চিকোর পথে থাকায় ওই রাস্তায় জ্যাম লেগে গেছে।
গত চার বছর ধরে প্রচণ্ড খরায় ভুগছিল ক্যালিফোর্নিয়া। গত সপ্তায়ও বাঁধের শীর্ষস্থান থেকে পানি সাত ফুট নিচে ছিল। কিন্তু কয়েকটি শীতকালীন ঝড়ের দমকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম লেক ওরোভিল বাঁধে এমন জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলো।








