প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন।
এখন পর্যন্ত যে ছয়জন বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে তারা হলেন, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন। তবে আপিল বিভাগের অপর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
শনিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন বলে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। কিছুক্ষণ আগে তার পদত্যাগ পত্র আইন মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা কালবিলম্ব না করে এটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেব। আশাকরি কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’ এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত একে একে আপিল বিভাগের অপর পাঁচ বিচারপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানা যায়।
শনিবার বেলা ১১টা থেকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জড়ো হন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেসময় বিভিন্ন শ্লোগানে উত্তাল হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল শ্লোগানের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
দুপুর ১টার দিকে চ্যানেল আই অনলাইন এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানতে পারে। প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য বিচারপতিদের বিষয় চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং শনিবারই তিনি পদত্যাগের প্রক্রিয়া শেষ করবেন বলে চ্যানেল আই অনলাইন নিশ্চিত হয়।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাথে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনার জন্য প্রধান বিচারপতির ডাকা শনিবারের ফুলকোর্ট সভা স্থগিত করা হয়। সকাল সাড়ে দশটার সভাটি স্থগিত করা হয়েছে বলে সকাল ৯ টা ৫৫ মিনিটে জানান সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
শনিবার সকালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘আমরা আগেই প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলাম। ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদেরকে উষ্কানি দিলে এর ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করতে হবে। অনতিবিলম্বে বিনা শর্তে প্রধান বিচারপতি পদ থেকে পদত্যাগ করুন এবং ফুল কোর্ট মিটিং বন্ধ করুন।’








