প্রতিদিন হট চকলেট খেলে ৬০ বছর পরেও নিজের পায়ের উপর বেশ জোর পাবেন। কারণ গবেষণা বলছে, কোকোয়া পায়ে রক্তচলাচলে সহায়তা করে।
ছয় মাস দিনে তিন কাপ করে চকলেট খেলে পরবর্তী জীবনেও হাঁটাচলা করতে তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। ডার্ক চকলেটে থাকা এপিকাটেচিনে প্রচুর পরিমাণে থাকে কোকোয়া। গবেষকদের মতে, এপিকাটেচিন অংশগ্রহণকারীদের শরীরে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং সেই রক্তকে অনেক দূর অব্দি যেতে দেয়।
পেরিফেরাল ধমনীর রোগ (প্যাড) আছে এমন সব মানুষের উপর এই গবেষণা চালানো হয়। এই রোগে আক্রান্তের ধমনী সরু হয়ে পড়ে।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সার্কুলেশন জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। গবেষণার লেখক যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম্যারি ম্যাকডেরমট বলেন, প্যাডে আক্রান্তদের হাঁটাচলা ঠিক করার জন্য অল্প কিছু থেরাপি আছে।
আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ কাউন্সিলের প্রধান ড. নওমি হামবার্গ বলেন, প্যাড আক্রান্ত ব্যক্তিরা হাঁটতে ততটাই অসুবিধা অনুভব করেন যতটা ভয়াবহ হার্ট ফেইল হলে কেউ করে।
প্যাডে আক্রান্ত হলে পায়ের পেশীগুলো যথেষ্ট রক্ত সরবরাহ পায় না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর কোকোয়া পেশীগুলোকে রক্ষা করে এবং বিপাকক্রিয়াকে উন্নত করে।
ব্যায়াম থেরাপি নিলে প্যাড আক্রান্তরা দ্রুত হাঁটতে সক্ষম হয়। নতুন এই গবেষণা পথ দেখাচ্ছে যে কোকোয়া প্যাড আক্রান্তদের চিকিৎসায় নতুন পথ হতে পারে। তবে কোকোয়া কতটা কার্যকর সেটা বোঝার জন্য আরো বেশি বেশি গবেষণা দরকার। যদি গবেষণাটি ঠিক হয় তাহলে কোনো একদিন এসব রোগীদের প্রেসক্রিপশনে চকলেটের কথাই লিখতে হবে।
গবেষণার জন্য ৬০ বছর বয়সী ৪৪ জন প্যাড আক্রান্তের নমুনা নেওয়া হয়। তাদেরকে হয় এক মগ কোকোয়া অথবা ডাক্তারের দেওয়া ওষুধের প্যাকেটের পাউডার খেতে বলা হয় তিনবার করে ছয় মাস। কোকোয়াটি মিষ্টিবিহীন ছিলো এবং তাতে ১৫ গ্রাম কোকোয়া ও ৭৫ মিলিগ্রাম এপিকাটেচিন ছিলো।
গবেষণার শুরুতে এবং ছয় মাস পরে একবার তাদের হাঁটার পরীক্ষা নেওয়া হয়। দুইবার নেওয়া হয় খাওয়ার আড়াই ঘণ্টা পরে এবং আরেকবার ২৪ ঘণ্টা পরে। তাদের ট্রেডমিল পরীক্ষাও দিতে হয়।
প্যাড আক্রান্তরা যদি দীর্ঘসময় চিকিৎসা না নেয় তাহলে তাদের ধীরে ধীরে হাটার পরিমাণ কমতে থাকে। তবে গবেষকরা সাবধান করেছেন যে, সাধারণ চকলেটগুলো চিনিতে ভরা থাকে। সেগুলো খেলে কিন্তু একই ফলাফল পাওয়া যাবে না।








