জঙ্গিবাদের ছোবল থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত রাখতে সামাজিক বা পারিবারিক সচেতনতার সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা শিক্ষা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা শুধু জিপিএ-ফাইভের পেছনে ছুটছে মন্তব্য করে তারা বলেছেন, প্রকৃত শিক্ষাকে ধারণ করার জন্য চিন্তাশীল পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে।
গুলশানে হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়ায় ঈদ জামায়াতে জঙ্গি হামলায় তরুণ শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার খবরে সব জায়গায়তেই প্রশ্ন: কেন তারা এমন আত্মঘাতী পথ বেছে নিচ্ছে? শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারণ অনুসন্ধান করে শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন গলদ থাকলে তা দূর করতে হবে। কোমলমতি মনকে কেউ যেন বিপথে নিয়ে যেতে না পারে সেরকম সামাজিক বন্ধন ও শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, জিপিএ ৫-এর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ছুটছে শিক্ষার্থীরা। আমাদের রাসুল (সা) এর বাণী, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। মনে রেখো ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তোমাদের আগে বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।’ এই কথাটাই তো আমি অন্তরে ধারণ করছি না। কিন্তু ওটা আমি ঠিকই লিখে দিচ্ছি এমসিকিউ-এর মাধ্যমে।
শিক্ষার্থীদেরকে জঙ্গিবাদের ছোবলমুক্ত রাখতে সরকারের নির্দেশে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সমস্যার মূল জায়গায় হাত দেয়া হয়নি বলে মনে করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমার ধর্মকে হেয় করা বা অন্যের ধর্মকে ছোট করা –মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে তো এর স্থান নাই। তাহলে আসলো কোথা থেকে এগুলো। তাহলে আসে তথ্য প্রযুক্তির কথা।
“তথ্যপ্রযুক্তিটাকেও তো আমরা অপব্যবহার করতে দিয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে উগ্রবাদের দিকে ঝুকেছে অনেকে। সেখানেও কিন্তু আমাদের মনিটরিং করতে হবে।”
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুগোপযুগী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে কার্যকরী শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ভাবার সময়ও এসেছে।








