১.
১৭ আগস্ট ২০০৫। মৃদু কম্পনে কেঁপে উঠলো বাংলাদেশ। না, ভূমিকম্প নয়। ঘরে তৈরি বোমার বিস্ফোরণ। কোনও ক্যাজুয়ালিটি নেই, তবে আতংক আছে। ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা! ক্লাস্টার অ্যাটাক। শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কথা জানান দিলো জেএমবি। ইসলামি জঙ্গি সংগঠনটির শীর্ষ নেতার নাম বাংলা ভাই। মানে, বাংলাকেও ব্র্যান্ডিংয়ে রেখেছিলো দলটি।
২.
ঠিক তিন বছরপর, ২০০৮ সালে জেএমবির পাকিস্তানি বড়ভাই লস্কর-ই-তইয়্যবা যখন মুম্বাইয়ে টানা ৪দিনের নাশকতা চালালো, তখনও সেই ক্লাস্টার অ্যাটাক ফর্মূলা। একসঙ্গে৭/৮ জায়গায় হামলা। কোনটা রেখে কোনটা সামাল দেবে নিরাপত্তাবাহিনী, এনিয়ে দোটানায় কেটে গেলো বেশ কিছুটা সময়। বাড়লো ক্যাজুয়ালিটি।
৩.
আবারও দেশের প্রসঙ্গ। ৩০ অক্টোবর ২০১৫। রাজধানীর লালমাটিয়ায় মুক্তচিন্তার প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হামলা চালালো জঙ্গিরা। প্রকাশক টুটুলসহ ৩জনকে কুপিয়ে জখম করা হলো। যখন সবাই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত, তখন আজিজমার্কেটে আরেকটা সফল অপারেশন! জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যা করতে এবার কোনো ভুল হয়নি জঙ্গিদের।
৪.
ফ্রান্সের সাম্প্রতি কথামালাটাও একই ধরনের। জঙ্গিবাদের বাংলাস্টাইল! ক্লাস্টার অ্যাটাক। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এক যোগে হামলার খবর আসবে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে। দিশেহারা হয়ে পড়বে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। এই ফাঁকে বাড়বে ক্যাজুয়ালিটি, জঙ্গিবাদের উদ্দেশ্য সফল হবে। মানুষ হত্যা ছাড়া জঙ্গিবাদের যে আর কোনো উদ্দেশ্য নেই।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







