মাত্র ১৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ যেখানে জাতীয়করণ করা হয়েছে সেখানে সত্তরের দশকে প্রতিষ্ঠিত ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করণের দাবিতে ছাত্র-শিক্ষককে রক্ত দিতে হচ্ছে। পুলিশ স্বাভাবিক মৃত্যু দাবি করলেও বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না কলেজটির সাবেক ছাত্র এবং সাংবাদিক রুহুল মাহফুজ জয়। তিনি বলছেন: পুলিশ আর সন্ত্রাসীরা সাইফুন নাহার ম্যামকে বিধবা করে দিল।
আজ তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন: উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় কলেজটার নাম ছিল ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজ। এখনকার নাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। শুনেছি, সত্তরের দশকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রহ করা ফান্ড থেকে কলেজটার জন্ম। শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা আর মান বিচার করলে ময়মনসিংহ জেলায় কলেজটা অন্যতম সেরা। খলিল স্যার, শহীদ খান স্যার, উপেন্দ্র স্যার, শাহিদা ম্যাম, হাকিম স্যার, রুহুল স্যার…এরকম কত কত নাম! আমার জীবনে প্রথম তিনজন সুপারহিরো। এখনও অনেক প্রবীণ শিক্ষক ওই কলেজে আছেন। সাইফুন নাহার ম্যাম বাঙলা পড়ান। উনি আমাদের পদ্মা নদীর মাঝি আর রক্তাক্ত প্রান্তর পড়িয়েছেন। ওনার জীবনসঙ্গী আবুল কালাম স্যার উদ্ভিদবিদ্যা পড়াতেন। একই কলেজে। রাষ্ট্রযন্ত্রের পুলিশ আর স্থানীয় এমপির সন্ত্রাসীরা আজ সাইফুন নাহার ম্যামকে বিধবা করে দিয়েছে। রসায়নের হেলাল স্যার মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। অপরাধ? ছাত্র-শিক্ষকরা মিলে কলেজ জাতীয়করণের জন্য আন্দোলন করছেন।
নিন্দা জানাচ্ছি না। এদের নিন্দা করলেও বাহুল্য হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, বছর পনের আগে এমপি প্রতিষ্ঠিত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে। যে কলেজের ছাত্রীসংখ্যা তিনশ হবে কীনা, সন্দেহ আছে। আর যে কলেজটা সমগ্র উপজেলায় শিক্ষার মুখ, তার শিক্ষককে জাতীয়করণের দাবীর জন্যে প্রাণ দিতে হয়!








