করোনা মহামারীতে কর্মজীবী মানুষের আয়-উপার্জন কমে যাওয়ায় পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে- এমন প্রেক্ষাপটে ‘সরকারি আইনগত সহায়তা’র পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তাদের ভূমিকা শীর্ষক ভার্চুয়াল কর্মশালায় রোববার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে অতিমারির কারণে সামাজিক অস্থিরতাগুলো বেড়েছে। দারিদ্র্যতা কিছুটা হলেও বেড়েছে। কর্মজীবী মানুষের আয়-উপার্জন কমে গিয়েছে। এসব কারণেই কিন্তু দেখা যায় পারিবারিক সহিংসতাগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জন্য সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন, যা বেসরকারি সংস্থাগুলো করতে পারে।’
সারাদেশে লিগ্যাল এইডের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘সরকারি লিগ্যাল এইড সেবার পরিধি আরও বৃদ্ধি করার চিন্তাভাবনা করতে হবে।’
সাম্প্রতি দেশে কী ধরনের সহিংসতা বেড়েছে তা জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এসেছে উল্লেখ করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘সমাজের অর্থনৈতিক অবস্থা ও সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে অপরাধপ্রবণতা বাড়ে-কমে। একটি পত্রিকায় দেখেছি, কীভাবে ডিভোর্সের সংখ্যা বেড়েছে। পরিসংখ্যানে এসেছে যে, ৭০ শতাংশ ডিভোর্স নারীরা দিয়েছেন। এর কারণও অনুসন্ধান করার প্রয়োজন আছে।’
জনসচেতনতা ও প্রচারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রমকে আরেকটু গতিশীল করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের আইনি সহায়তায় প্যানেল আইনজীবীদের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা প্রয়োজন কারণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা হিসেবে যারা কাজ করছেন তারা মূলত বিচারিক কর্মকর্তা। নানাবিধ সীমাবদ্ধতার মধ্যে তারা উঠান বৈঠক, স্কুল-কলেজে প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ২ হাজার ৬৬ জনকে আইনি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৭ জনকে মামলায় সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া ৪৯ হাজার ৯২৭ জনকে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি সেবা দেওয়া হয়েছে। আর হটলাইনের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়েছে ১৭ হাজার ৩২৮টি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘লিগ্যাল এইড সার্ভিস প্রান্তিক ও দুস্থ মানুষের জন্য বিশেষ করে দুস্থ ও পরিত্যক্তা নারীর জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর পরিধি আরও কীভাবে বাড়াতে ও কার্যকর করতে পারি সবাইকে তা নিয়ে চিন্তা ও কাজ করতে হবে।’
এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে নেত্রকোনো জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা মো. মহিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা কুদরাত-ই-খোদা, কুমিল্লা জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ফারহানা লোকমান, বান্দরবান জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা আবুল মনসুর সিদ্দিকী, লক্ষ্মীপুর জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফাহদ বিন আমিন চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ফারাহ মামুন ও ময়মনসিংহের জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা রওশন আরা রহমান প্রমুখ অংশ নেন।








