আগেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিম। সাদা পোশাকে লাল বলের ক্রিকেটে তার বিকল্প এখনো বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। ৩৭ বছর পেরিয়েও পরিশ্রমে মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত এক ‘তরুণ’ তিনি! রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে চিরকাল মনে রাখার মতো একটা ইনিংস খেলেছেন। ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়ার আক্ষেপ মিলিয়ে গেছে পাকিস্তান সফরে দলের ঐতিহাসিক টেস্ট জয় আর ম্যাচসেরার পুরস্কারে।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক মুশফিকের ১৯১ রানের ম্যারাথন ইনিংসে পাকিস্তানের ৪৪৮ টপকে দল পায় ১১৭ রানের লিড। তারপর দলীয় বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকদের দেড়শর মধ্যে গুঁড়িয়ে জয়ের ভীত মজবুত করে টিম টাইগার্স। ৩০ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিচ্ছিন্ন হয়নি বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি।
১০ উইকেটে পাওয়া জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সাফল্যের পাতায় সেরার কাতারেই থাকবে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের মতো আরও একটা বড় সাফল্যের পালক যোগ হল টাইগার ক্রিকেটে।
এই টেস্টেই দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করেছেন মুশফিক। ২০০৫ সালে ক্যারিয়ার শুর করে ধারবাহিকভাবে রান করে গেছেন। পেয়েছেন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’ তকমা।
মুশফিকের সাফল্যের মূলমন্ত্র কারো অজানা নয়। দলের সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার তিনিই। টিম বাস রওনা হওয়ার আগে ভেন্যুতে গিয়ে নিবিড় অনুশীলন করেন প্রতিনিয়ত।
সিরিজ চলাকালীন ছুটির দিনও (ঐচ্ছিক অনুশীলন) থামে না তার ব্যাট। আর ফিটনেস ধরে রাখতে বিরামহীন পরিশ্রম তাকে নিয়ে গেছে আইডলদের কাতারে। তার অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টা সতীর্থদের কাছেও অনুকরণীয়।
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের তৃতীয় দিনে মুশফিক যখন ফিফটি করে অপরাজিত থাকলেন তখন মুমিনুল হক বলছিলেন, ‘মুশফিক ভাই আসলে খুব ডেডিকেটেড পার্সন। আমি যদি কিছু একটা বলতে যাই সেটা কম হয়ে যাবে। তার খেলার যে ধরন, আমাদের খেলার ধরন থেকে অনেক ভিন্ন। প্রতিটা বল এত যত্ন নিয়ে খেলে, বোঝা যায় যে অনেকগুলা টেস্ট ম্যাচ খেলছে। তিনি খেলাটাকে সাজিয়ে রাখেন।’
মুশফিক টিকে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টায় সঙ্গী হিসেবে এই ম্যাচে লিটন-মিরাজদেরও পেয়েছিলেন। তাতে মনের মতো করে সাজাতে পেরেছিলেন ইনিংসটা। আর ৯ রান করতে পারলেই পেতো পূর্ণতা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের আগে বাংলাদেশের জার্সিতে সবশেষ মুশফিককে দেখা গেছে এবছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে। টেস্ট খেলেছেন ৯ মাস আগে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না থাকলেও পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জার্সিতে খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশ টাইগার্সের হয়ে খেলেছেন কয়েক ম্যাচ। ‘ফিটনেস সচেতন’ মুশফিক এই সময়ে কাজ করেছেন নিজের ফিটনেস নিয়েও।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুশফিকের সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। সেখানে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ তারকা বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আড়াই মাস বিরতিতে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি। স্কিল নিয়ে কাজ করেছি নিবিড়ভাবে।’
আর ১৯১ রানের ইনিংসের রহস্য নিয়ে জানতে চাইলে উত্তর দেন, ‘সত্যি বলতে কিছুই না। আমি আমার জায়গায় সৎ থাকার চেষ্টা করেছি। আমি প্রতিনিয়ত উন্নত করার চেষ্টা করেছি। আমি আমার নিজের কাজটাকে প্রতিযোগিতা হিসেবে নিয়েছি। এটাই হয়তো রহস্য।’








